পাহাড়ের প্রত্যয়ে জঙ্গলের বিহনে

shrutisahitya.com



ঘুঁট্যা  //  হুড়কা


পুরুলিয়ার প্রচলিত গ্রাম্য ভাষার একটি কবিতা

কার্ আঁইড়্যা কার্ বাছুর
চরএ ডাঙা ডহরএ৷
পেছু ঘ্যুরে বহু বিটি
খাঁচি ভরএ গবরএ৷৷

কন্ টাঁড়ের কন্ চাটান
রোদ পড়এ বিহানএ৷
গবর সান্যে ঘুঁট্যা দিবেক
গটা মাঘ ফাগুনএ৷৷

ধানের আগড়া মেশাঁই বড়কি
গবর সানএ দুহাতএ৷
খামারের পাচীর গিলা
ভচ্ছে লতুন ঘুঁট্যাতে৷৷

গবর লাড়ু খাঁচিয়ে ভৈরএ
যাছে চাটান,পাচীরএ৷
থপাথপ্ আওয়াজ কৈরএ
ঘুঁট্যা হছে অচিরএ৷৷

উল্টাঁয় পাল্টাঁয় শুখা ঘুঁট্যা
রাখছ্যে ঘরএ আন্যে৷
চুলহায় পুহড়ব্যেক ই ঘুঁট্যা
স্যাঁতস্যাইতা সরাবনএ৷৷

গবর কুড়হাঁয় ঘুঁট্যা দিতে
যাছে লিরন চল্যে৷
ছেল্যা কাঁন্দে মাঁঈ মাঁঈ
লে ন টুকু কলএ৷৷

..


উদার  //  মিজানুর রহমান মিজান


আকাশ তোমাকে শুধাই , তুমি নাকি উদার ভাই
ব্যথার ভারে বৃষ্টি ঝরে হয় বর্ষন
এ নাকি তোমার ক্রন্দন !
বায়ু বিশাল মহান , বাচাঁয় জীবের প্রাণ
করে রাগ অভিমান , লন্ডভন্ড ফুলের বাগান
এ কি তোমার রোদন ?
নদী চলে সাগর পানে , ভাঙ্গাগড়ার সুর ছন্দনে
দুই তীরে সংগোপনে , গেথে মালা মৈত্রী বন্ধনে
বহে নিত্য যোজন যোজন।
মানবের বিচরণ , জুড়ে এ ত্রিভূবন
করে আহরণ , যা লাগে প্রয়োজন
তবু ও অতৃপ্ত সারাটি জীবন।

.


গর্বিত বাবা  //    মৌ সাহা
.


অনেক টাকা খরচ করে ছেলেকে বড় করেছি।
ছেলে আমার মস্তবড় চাকুরীজীবি,
অনেক টাকা বেতন,বোনাস।
তাই আমি আজ নিশ্চিন্ত হয়েছি।
আমার আর এখন চিন্তা নাই।
আমি গর্বিত বাবাদের একজন।
দীর্ঘ সাতাশ বছরের সাধনা আমার।
ছেলের আমার বিয়ের বয়স হয়ে গেছে,
আসবে আমার ঘরে টাকার খনি।
ভাবতেই মনটা হয়ে যায় উচ্ছ্বসিত।
ভালো বংশের সুন্দরী বৌমা চাই,
ছেলেকে প্রতিষ্ঠিত করতে খরচ তো কম হয়নি।
বৌমার সাথে কিছুটা আসলে অসুবিধা কি?
খাট,টিভি,আলমারী তো তাদের মেয়েরই থাকবে।
গয়না গুলো কত লোকজন দেখে বাহবা দিবে,
কিছু মোটা অংকের টাকা পেলেও মন্দ হয়না,
বিয়ের খরচ করেও ছেলের জন্য কিছু থাকবে।
ছেলেতো আমার কোন অংশে কম নয়।
ব্যাংকে রেখে দিলে সারাজীবনের ভরণপোষণ হবে।

.

.


কেন বৃদ্ধাবাসে দিই?  //     কানাই লাল সাহা


ঘটা করে বাপকে দিলাম বৃদ্ধাবাসে,
মাকেও দিলাম সাথে।
যেন তারা দুজনেতে মনের সুখে থাকে।
ফ্ল্যাট কিনেছি দু'কামরার,নেহাত ছোট্ট নয় তো,
একটি মোদের শোবার তরে,একটি সাজাই তাই তো।
বসবে সেথায় কলিগ বন্ধু আরও কোন গেস্ট,
বাবা-মার তো জীর্ণ দশা,কেমনে রাখি টেস্ট?
বাবা-মাকে বলেছিলাম,তোমরা থাক সিঁড়ির তলায়,
মন পছন্দ নয় কো তাদের,বৃদ্ধাবাসে তাই পাঠালাম।
মরার পরে লোক খাওয়াব,শ্রাদ্ধ করবো গয়ায় গিয়ে,
পারবেনা কেউ দোষ দিতে তো,মোদের নিয়ে।

.


নেমে এসো  //  রণেশ রায়


ভুলে গেছো? তুমি কি চেন না আমায়?

আমি যে বাঁচতে চাই তোমার চেতনায়

আকাশের বজ্রপাতে বাতাসের তুফানে

জীবন নদীর মোহনায়,

জনতার কোলাহলে ভৈরবী গানে

পাহাড়ের প্রত্যয়ে জঙ্গলের বিহনে

সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে আমি যে তোমার,

আমার বিশ্বাসে আমার প্রশ্বাসে

তোমার হৃদয়ের স্পন্দন বার বার,

সর্বক্ষণ তুমি মনপ্রাঙ্গনে আমার

আমি যে খুঁজে ফিরি তোমায়

দেখা দাও একবার আমায়,

দহন যন্ত্রনা শেষে

বর্ষা হয়ে নেমে এসো

আমার জীবন আঙিনায়।

Post a Comment

0 Comments