নিশি রাতে // রণেশ রায়
আঁধার ঘনায় আকাশে,
নিঝুম সন্ধ্যা, চাঁদের কিরণে
আলো আঁধারের খেলা
সবুজ গালিচা প্রাঙ্গণে
ঘোড়া ঘাস চিবিয়ে চলে
মৃদু গুঞ্জন বাতাসে,
এ নিশুতিতে দেখা যায় না কিছু।
পথিক দরজায় কড়া নাড়ে,
টক টক টক,
‘কেউ কি আছেন ভেতরে?’
নিস্তব্ধ, উত্তর নেই কোনো।
পেঁচা ডেকে ওঠে
তার কান ঘেষে উড়ে যায়,
শ্রবণ যন্ত্র জাগে,
আবার দরজায় টোকা
‘কেউ কি আছেন ভেতরে’?
সাড়া নেই কোন
নিঃশব্দ নিশ্চুপ
কেউ নামে না,
সে ধূসর চোখে দাঁড়িয়ে বিমূঢ়,
ভেতরে অশরীরী কারা শ্রোতা?
ঘুরে ফেরে ঘরে
তাদের আস্তানা সেখানে,
মায়াবী চাঁদের আলোয়
মানব কন্ঠের শ্রোতা,
তাদের নীরব উপস্হিতি তার শ্রবণে;
ঘোড়া নড়া চড়া করে
ঘাস চিবোতে থাকে,
নিস্তব্ধতা ভেঙে শব্দ ভাসে
জেগে ওঠে বাতাস
চাঁদের কিরণে রাতের আঁধারে।
হঠাৎ দরজায় টোকা মারে
গলা তুলে বলে
‘ওদের বোলো এসেছিলাম,
আমি আমার কথা রেখেছি’।
নিঃশব্দ মায়াবী আধাঁর ভেঙে
ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়।
ঘোড়ার খুঁড়ের শব্দ
টগ বগ টগ বগ
আস্তে আস্তে মেলায়।
সওয়ারী গেল কই?
উত্তর মেলে না।
.
.
আমাদের-ই মাঝে //রণেশ রায়আমার কবিতা কথা কয়
বলে যায়,
ইহ হয়ে আদি থেকে অন্তে
জীবনের এ যাত্রাপথে,
অবাক বিস্ময় !
রহস্য খুঁজি সে কোন অনন্তে !
খুঁজে ফিরি ভ্রূণে,
শৈশবের ডিঙা বেয়ে
কৈশোরের নব-বসন্তে,
আমার সে উদ্ধত যৌবনে,
প্রবেশ বার্ধক্যের অন্তে,
অতীত বর্তমান ভবিষ্যত
মেলে এক বিন্দুতে,
চেষ্টা জীবনের রহস্য ভেদে।
সৃষ্টির এই বিশালতা মাঝে
খুঁজি খুঁজি আর খুঁজি-----
কার্য-কারণ খুঁজে ফিরি
জীবনের উত্থানে পতনে ,
স্রষ্টারে পেতে চাই
সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে।
জীবনের ক্ষেতে চাষ হয় শস্য
পরিচয় পাই অজানার,
খুলতে থাকে সৃষ্টির রহস্য,
সমুদ্র পারে কুড়ানো ঝিনুক
যেন মুক্তার সমাহার ;
খুঁজে পাই নক্ষত্রের মুখ
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে ছড়িয়ে থাকা
জ্ঞানের ভাণ্ডার।
জানিয়ে যায়,
স্রষ্টা বেঁচে থাকে সৃষ্টির মাঝে
প্রবহমান জীবনের স্পন্দনে ;
প্রকৃতি-পুরুষের বিরোধ-ঐক্যের
ফসল এ জীবন,
জড় থেকে জীবনের উত্থানে
কোষ থেকে সৃষ্ট প্রাণে
তাকে দেখি বৈচিত্রের সাজে
জীবনের প্রবাহে
প্রকৃতির আবহে
জন্ম-মৃত্যুর রহস্যে
বিশ্ব জগতের মাঝে।
বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের চলমান সভায়
কেউ আসে কেউ যায়,
উন্মোচিত হয় কিছু,
অজানাকে জানা যায়,
তবু বেশিটাই ঢাকা থাকে
অ-জ্ঞানতার কুয়াশায়।
এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সকলের মাঝে,
সে নয় অতি-প্রাকৃত কেউ,
সৃষ্টির মাঝারে
আমাদের-ই সাথে
স্রষ্টা বিরাজে নিত্য নতুন সাজে।

0 Comments