টুকিটাকি // ছোটবেলা - ২৭ // বন্য মাধব

shrutisahitya.com


কত কি আমরা নিজের চোখে দেখেছি, আবার কিছু গল্প, যেগুলো সত্যি বলে আমাদের কাছে চালানো হয়েছে এবং বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করেই সেগুলোকে আমরা অবলীলায় বিশ্বাস করেছি। আমাদের বাড়ির গোলঘর লাগোয়া একটা নিমগাছের ঘটনা বলি। আমরা সব রাত ৯ টার মধ্যে খেয়ে নিতাম। ঘাটের ধারে তোলা জলে আমরা খেয়েদেয়ে খুব তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে মার ছুট ঘরে। এরকম একদিন হঠাৎ দেখি নিমগাছে চার হাত পায়ে লোমশ কী একটা হাঁটছে।

.

একছুটে ঘরে। এই ঘটনা অনেক দিন আমাকে ভয় দেখিয়েছে। আর হরহামেশাই বাড়ির টালি বা উঠোনে সন্ধ্যেয় ভূতের চাওড় পড়ত। বড়রা তিন বা পাঁচ ব্যাটারির টর্চ নিয়ে বাড়ির চারপাশ ভালো করে দেখেও কাউকেই পেতো না। শেষকালে গুণীন ডাকলে এবং গুণীনের মন্ত্রপূতঃ ইঁদুর মাটি বাড়ির চারদিকে ছড়িয়ে দিলে তবেই কাজ হোতো।

.

আমাদের চোদ্দ পুরুষের বাসস্থান ডিঙেভাঙার দু'টো ভূতের গল্প এবার শোনাই। একটির মূল চরিত্রে আমার ঠাকুমা দিবসবালা আর অন্যটিতে ঠাকুরদা। ছোটবেলায় গল্প দু'টো বারবার এর ওর কাছে শুনতাম, পুরোনো হোতো না। দু'টি গল্পই ভূতেদের সঙ্গে অসম লড়াই এ আমাদের সাহস যোগাতো।

.

তখনকার দিনে ঠাকুরদারা বার বাগানে, যেখানে একটা পুকুরও থাকতো, দিনমানে বড় বাইরে করতে যেতেন। সেদিনও হাতে বদনা, কাঁধে গামছা ফেলে ঠাকুরদা ঐ কাজে গেছেন। নির্বিঘ্নে কাজ সারার পর জলশৌচ করে পাড়ে উঠেছেন। হঠাৎ তিনি নাকি সুরে কান্নার আওয়াজ শুনে থমকালেন। এদিক ওদিক তাকাতে একটা মোটা জাম গাছের গোড়ায় সাদা থান পরা এক বিধবাকে দেখতে পেলেন। 

.

(চলবে)

Post a Comment

0 Comments