ভ্যালেন্টাইন // সুব্রত মজুমদার
এই মেয়ে তুই আমার হবি ? মিষ্টি চুমু দেব গালে,
এই যে মেয়ে ! আমার হলে রাখবো তোকে রাজমহলে।
মিথ্যে ভাবিস, রাজার মহল মর্মর আর ইট পাথরের;
আমার হৃদয় সিংহাসনে তুই যে রাণী সত্যিকারের।
ফাগুন আসে বসন্তবায় সঙ্গে নিয়ে ভ্যালেন্টাইন
পোড়া এ মন তাই মানে না সমাজ ধর্ম নিয়ম আইন।
প্রেমের পদ্যে তোকেই দেখি প্রেমের স্বপ্নে তোরই মুখ
মুখ লুকালে বুকের মাঝে উদ্ধত হয় আমার বুক।
তুই যে আমার বুকের মাঝে ঝড় তুলে যাস নিত্যদিন
তুই তো আমার স্বপন প্রিয়া তুই তো আমার ভ্যালেন্টাইন।
লাল গোলাপের পাঁপড়িগুলো আমার হৃদয় কপাটিকা
তোর হাতে আজ ধরিয়ে দিলাম, - ভালোবাসার দিব্যি আঁকা।
ভালবাসাই শেষশব্দ / / ২১ // মাধব মন্ডল
শূন্য মন, পাথর বাতাস, হিস হিসানী, আঙুল ট্রিগারে প্রকৃতির, হাহাকারের গুলি এফোঁড় ওফোঁড়, পালিয়ে যাচ্ছি না, বৈষম্যের শেষ তো দেখেই যাব,শ্রমই শেষকথা।
করে যা তোর যা খুশি, আমি যে গ্যালিলিও রক্ত, প্রমাণিত সত্য বলতেই হবে আমাকে, মানুষ তো আমি, উঠি, দাঁড়াইও, পথ চলি, নেমকহারাম প্রকৃতি নত হবেই আজ বা কাল।
এ ভূত্বকে মানুষই শেষকথা প্রকৃতি, ভালবাসাই শেষকথা প্রকৃতি, ফোকটে কিছুই চাইনি, হরদম লড়াই, হারাটা রক্তে তোর, জলঘোলা করে খাওয়াও তোর অভ্যাস।
সক্রেটিস যীশু গ্যালিলিও ছন্দাকে ছুঁয়েছিল যে স্পর্ধা, তাকে কবর দেওয়া তোর মুরোদে নেই, তুইতো অন্ধকারের খেলুড়ে, তোকে ভয় পেয়ে পুজো দেয় সাধারণে।
ওরে চ্যাঙমুড়ি কানি, পুজো তুই পাবিই না, রক্তে রক্তে ভরা ভূত্বক, আমি আমরা নাছোড়, লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনেও যে বা যারা প্রিয়জন হারায় কলেরায়...
এলোমেলো স্বপনেরা / / ফরহাদ হোসেন
স্বপ্নে ডুব দিই সমুদ্রে।
মুক্তো খুঁজি,
দম বন্ধ,শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট,
তড়িঘড়ি উঠে আসি।
হাত খুলতেই দেখি মুক্তহীন ঝিনুক,কাঁকড় আর বালি।
কতবার ছুটে গেছি চাঁদে;
কল্পনা চাওলা বা রাকেশ শর্মার মত করে।
বাড়ি বানাবো ভাবছি,
এমন সময় ভেঙে যায় ঘুম।
সূর্যের অরুন আভা হেসে হেসে বলে
-"কল্পনা করতে নেই গো বাছা।"
স্লোগানের মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আকাশে উঠে না আর
নেমে আসে পায়ের নিচে।
আবার কষ্ট করে হাত তুলি,
দেখি মুষ্টিবদ্ধ হাত উধাও,রক্তাক্ত শরীর,
কান্নায় ভেঙ্গে পরে বিবেক।
প্রতিবাদ কি ভয়ংকর!
শিউরে উঠে শরীর।
কি যে হয় মাঝে মাঝে?প্রশ্ন করি গাছকে-নদীকে-পাহাড়কে,
তারা উত্তর দিতে পারেনা!আমার প্রশ্নে কোন ভ্রুক্ষেপেই নেই!
গাছ কাটো কোন প্রতিবাদ নেই।
নদীর জল শুকিয়ে যায়
মেঘের উপর রাগ নেই।
পাহাড় চূড়ায় বরফ গলে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যায়
প্রিয়তমা বরফের উপর অভিমান নেই।
আমি শিক্ষা নিতে চাই গাছে কাছে-নদীর কাছে-পাহাড়ের কাছে।
আবার আমি ছাত্র হতে চাই।
পাখি // ফরহাদ হোসেন
সেই পাখিটা,
জানতো যদি
কতটা ভালোবাসি?
আনতো গোলাপ ঠোঁটের কোণে,
ছুড়তো হেসে শুষ্ক মনে।
সতেজ থাকতো লাল গোলাপটা
বুকের কোণে রক্ত মেখে,
সতেজ থাকথো অনুভবে।
অবলম্বন // অভ্র ঘোষাল
---- কী হয়েছে রে মা ? ঘর অন্ধকার করে এভাবে শুয়ে আছিস কেন ? শরীর খারাপ ?
---- না মা, ও কিছু না । একটু মাথাটা ধরে আছে আসলে । আজকে স্কুলে খুব চাপ ছিলো , এই আরকি !
---- তো সমস্যাটা যদি মাথাতেই হয়ে থাকে, তবে পেট চেপে ওভাবে শুয়ে আছিস কেন ? ওরে, আমি তোর মা রে ! আমার চোখকে ফাঁকি দিবি ?
---- না মা, ও কিছু না । একটু মাথাটা ধরে আছে আসলে । আজকে স্কুলে খুব চাপ ছিলো , এই আরকি !
---- তো সমস্যাটা যদি মাথাতেই হয়ে থাকে, তবে পেট চেপে ওভাবে শুয়ে আছিস কেন ? ওরে, আমি তোর মা রে ! আমার চোখকে ফাঁকি দিবি ?
---- না না মা, আহা তুমিও যেমন ! ওটা তো এমনই শুয়ে ছিলাম ওভাবে !
---- আমার থেকেও লুকোবি ? তোর মা-কে তোর কষ্টের ভাগ দিবি না ?
( চোখে জল জমে আসে শ্রুতির । মা-কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে । )
---- কাঁদছিস কেন মা ? কাঁদিস না ! বোকা মেয়ে , কাঁদে নাকি কেউ এভাবে ? চোখ মোছ দেখি ।
---- আমার থেকেও লুকোবি ? তোর মা-কে তোর কষ্টের ভাগ দিবি না ?
( চোখে জল জমে আসে শ্রুতির । মা-কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে । )
---- কাঁদছিস কেন মা ? কাঁদিস না ! বোকা মেয়ে , কাঁদে নাকি কেউ এভাবে ? চোখ মোছ দেখি ।
---- মা, খুব কষ্ট হয় গো ! আমি যে আর পারছি না !
----- মা রে, সব মেয়েরই জীবনে এই সময়টা আসে । মেয়ে হয়ে জন্মেছিস, কী করবি বল ! এটা তো মেয়েদের জীবনেরই অংশ ! তবে কখনও আর লুকোস না আমার থেকে । তোকে তো জন্ম দিয়েছি, তোকে বড়ো হতে দেখছি । তোর কষ্টটা কি আমার নজর এড়ায় রে মা ? শুধু তুই কষ্টটা ভাগ করে নিস আমার সাথে । আমাকে তোর বন্ধু মনে কর ।
----- মা রে, সব মেয়েরই জীবনে এই সময়টা আসে । মেয়ে হয়ে জন্মেছিস, কী করবি বল ! এটা তো মেয়েদের জীবনেরই অংশ ! তবে কখনও আর লুকোস না আমার থেকে । তোকে তো জন্ম দিয়েছি, তোকে বড়ো হতে দেখছি । তোর কষ্টটা কি আমার নজর এড়ায় রে মা ? শুধু তুই কষ্টটা ভাগ করে নিস আমার সাথে । আমাকে তোর বন্ধু মনে কর ।
------ মা, তুমি এভাবেই আমাকে জড়িয়ে থাকো না আরও কিছুক্ষণ ! ( অনবরত কাঁদতে থাকে শ্রুতি ।)
নির্বিকার নীরবতা // অভ্র ঘোষাল
শোন মিতাই, আমি একশো বছর বাঁচতে চাই না তোকে ছাড়া ; তোর সাথে কয়েকটা মুহূর্ত সুখে-দু:খে কাটাতে পারলেই,যথেষ্ট আমার কাছে । এখন যেন তোকে ছাড়া স্বপ্ন দেখা বারণ...... না, এমন নয় যে তোকে ছাড়া আমি বাঁচতেই পারবো না... কেন পারবো না ?? নিশ্চয়ই পারবো....!! শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রত্যেকটা বিন্দু সমেত দিব্যি বাঁচতে পারবো ... তবে হ্যাঁ, আমাদের জীবণের স্রোতটা হয়তো হয়ে যাবে সমান্তরাল ।
সত্যি বলতে, তোকে ছাড়া দিনগুলো সব বিরক্তিকর ঘুমের মতো । প্রথম যেদিন জানতে পারলাম... অজান্তেই তোর প্রেমে পড়ে গিয়েছি , সেই দিন থেকেই তোকে হারানোর ভয় শুরু আমার । হয়তো আমার কথাবার্তায় খুব বিরক্ত হোস, তবুও বলি আমার ভালোবাসা, মন্দবাসা, দু:খ, অভিমান সব কিছু তোকে ঘিরে ।
এটা ঠিক যে, তুই আমার জীবণে নেই... আবার এটাও ঠিক যে তোকে এখনও ভুলতে পারিনি । অনেক দিন ধরে তোকে ওই গলির মুখটায় দেখতে পাই না... তোর ব্যস্ততারা আজ আমার স্বপ্নমুখর দু:স্বপ্নের কালরাত্রি । এখন আর প্রতি রাতে তোকে আশা করি না , কেবল তোর স্মৃতি নিয়ে বাঁচতে চাই । আমিও চাই ফিরতে তোর গলির ওই পথে...
যদি দাঁড়িয়ে থাকিস প্রতিদিনের ওই বারান্দাটায়, তবে দাঁড়িয়ে থাকবো আমি তোকে কাছে পাওয়ার আশায় । একটা খাতার পৃষ্ঠা ছিঁড়ে চিঠি লিখিস, দু'চার কথায় বৃষ্টিদিনের ছবি আঁকিস....এইটুকুই বলার ছিলো শেষে ।

0 Comments