বন্ধুরা,
অনেক ধন্যবাদ আমার লেখাকে আপনাদের ম্যাগাজিনে প্রকাশ করার জন্য ।। আজ একটি গল্প পাঠালাম।। দুইজন বন্ধুর ভালোথাকার গল্প।।প্রকাশিত হলে ভালো লাগবে।।
ভালো-বাসা // তন্মনা চ্যাটার্জী
সন্ধ্যের সময় এই জায়গাটায় এসে না বসলে আজও অমর্ত্য-র দিন সম্পূর্ণ হয়না। পাঞ্জাবীর পকেট থেকে ফোনটা বার করে তন্দ্রার নম্বরটা ডায়াল করে সে, আজ কুড়ি বছর ধরে এই অভ্যেসটা বদলায়নি ।
-হ্যাঁ , বল রে।
- কি করছো।
- এই তো বসে আছি। আজ কাশিটা বেড়েছে তাই টানটাও।
- ওষুধ খেয়েছো?
- না।
- কেন এমন করো বাড়াবাড়ি হলে কি হবে!
- আর কি হবে বল।
- এই জন্যই রাগ টা হয় আমার।
- খেয়ে নেব ।
- জানো, আজ সামনের দুটো দাঁত পড়ে যাবে বোধহয় । দুটোই নড়ছে।
- বেশ ভালো হয়েছে। আমার তো সবই নড়ছে ।
- বৌমার কথা শুনে শুনে ছেলেটা আজকাল বড্ড হ্যাটা করে।
- চলে আয় এখানে।।
- একসাথে থাকবো?
- বেশ হবে।মন্দ নয়।
-ভেবে জানাবো
- আজ রাখি।
কেটে যায় আরও কিছু মাস....
তারপর ......
"বন্ধন" একটা খুব সুন্দর পরিবেশে গড়ে ওঠা বৃদ্ধাশ্রম। করিডোরের দুটো চেয়ারে বসে আছে সমবয়সী দুই অভিন্নহৃদয় আত্মা।।বন্ধুত্ব ,প্রেম ,ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সব ছাড়িয়ে আজ ওরা যেনো একে অপরের আত্মার আত্মীয়।। কোনো ঝড় ঝাপটায় যারা কেউ কাউকে ছেড়ে যায়নি।।
তাই শেষের দিনগুলো পাশে থাকার সাথে সাথে একসাথে এই একান্ত নির্জন ঠিকানায় ওরা ভালো থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ ।। গল্পে মশগুল হয়েই কেটে যায় কত না স্তব্ধ সময়।। তন্দ্রা আর অমর্ত্য অবশেষে ভালোবেসে ভালো থাকার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে ।। "বন্ধন" এ তাই দুই বন্ধু মুক্তির আস্বাদন গ্রহণ করতে ব্যস্ত একে অপরের ভরসায় আর সান্নিধ্যে !!
0 Comments