টুকিটাকি // ছোটবেলা - ৩০ // বন্য মাধব

 shrutisahitya.com


যা চোখে দেখিনি অথচ বারবার শুনেছি, শুনে আরও শুনতে চেয়েছি, এ ঘটনাটা তেমনই একটা। আমার নথ পরা বড় জ্যেঠিমাকে সবাই পাগলি, মাথার ঠিক নেই বলতো। প্রায়ই দুপুরবেলা তিনি কান্নাকাটি করতেন, বিলাপ করতেন, একটানা সারা দুপুর। তাঁর কান্নাকাটির কারণটা আমরা জানতাম। তাই সেটা একরকম আমাদের গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁর জন্যে দুঃখবোধ হওয়া ছাড়া কারো কিছু করারও ছিল না। 


শুনেছি বড় জ্যেঠিমার প্রথম সন্তান সাহেবদের মতো দেখতে ছিল, তাই নামও ছিল সাহেব। ফর্সা টুকটুকে। আমাদের বাড়িতে ফর্সা টুকটুকে অনেকেই ছিল বা ছিলেন। কেউ কেউ এত সুন্দর মুখশ্রীর ছিল বা ছিলেন যে, তাঁর বা তার নামই রাখা হয়েছিল সুন্দরী বা রূপবান বলে। সবচেয়ে সুন্দর ছিলেন মেজ জ্যেঠিমা, যাঁকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয় নি। সুন্দরীদি আর হরেকৃষ্ঞদাকে রেখে তিনি হঠাৎ গত হোন, হরেকৃষ্ঞদার ছোটমেয়েও আমাদের সমবয়সী ও খেলাধুলোর সাথী রূপবান বা রূপা ভাইঝিও খুবই সুন্দরী ছিলো।


সেই সাহেবদা খুব দুরন্ত ছিল। আমের সিজনে আম পাড়তে গিয়ে বিপত্তি। বড় গাছ, মগডাল আধভাঙা, দাদা ঝুলছে, নিচে কাপড়, চাদর, দোলা হাতে বড়রা। কিন্তু শেষ রক্ষা হোলো না। এ ডাল থেকে ও ডালে ঠোক্কর খেতে খেতে নিচে যখন পড়ল, তখন আর তাকে ফেরানো গেল না।


রাবণের চিতার মতো সেই শোক সারা জীবন জ্যেঠিমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে, পরের দুই ছেলে, তিন মেয়ে সে শোক ভোলাতে পারেনি।


.........   চলবে

Post a Comment

0 Comments