কাব্যগ্রন্থ // এক থেকে একশ // মাধব মন্ডল

shrutisahitya.com







অতঃপর


যাও পাখি বঙ্গোপসাগরে


সেখানে তোমার হয়তো জোড় অপেক্ষায়


ঢেউয়ে ঢেউয়ে জলকেলি কর


ডানাতে ব্যথা এলে


ঘিলু যদি করেই চিনচিন


ফিরে এস পাখি।








এখানে একলা আমি


আমার ভূত্বক


শব্দেরা খেলে


আমৃত্যু খেলে 


কাকেদের ঠোঁটে


সন্ধ্যে হলেই আলো ছায়া


আকন্দ ঝোপে


মনেরও মনে


পাখি তুমি


ইচ্ছা হলে বাসায় ফিরো।




ও পাশে বিষের ক্ষেত


যাও পাখি পালকে প্রমাণ গাঁথ


অনেকে শোনে না তামাকু সতর্কীকরণ


ঠকে শিখে হাসপাতাল চল


গানও বলতে পার ক্লান্ত শ্বাসে


সবখানে তুমিই যে শেষ কথা পাখি!








সমাজ আমাকে দেখে


কিংবা দেখেও দেখে না


এত বাজনা


আলো এত আলো


সবাই জেনেছে আজ সশব্দ আচার


কবিরাও উৎসবে চারদিকে।




গাছে উঠে ফটো খিঁচি


সাঁতরেও বিলে


ঘুম থেকে উঠে আর ঘুমিয়েও


আমার বাহির ও অন্তর সব


তবুও রহস্য অন্ধকার চাপ চাপ।


তুমিই বল সমাজ তোমাকে কি করি


গিলবো না ওগরাগো?








আমি ও আমাদের ইচ্ছেটাই শেষ কথা 


ভাঙব গড়ব গড়ব ভাঙব 


বয়ে যাক রক্তনদী


পুড়ুক ঘর দুয়ার।




রাজারা মরে না


রূপান্তরিত হয়েছি মহাশয়


আমার কথাই বেদবাক্য


দেখছো না জনগণ কেমন মন্ত্রমুগ্ধ!




আমি হাঁটছি


লাখো লোক ছুটছে পিছনে


আমি না বর্তমানের যাদুকর কিনা


মহাকাল ফাল নিয়ে তোরা থাক।




আমি না ভাঙলে


কোথায় বসাবি আমার অমর মূর্তি!


কুলালে ক্ষমতায় গোটা ভূত্বকটাই


গুঁড়ো গুঁড়ো করে দেব কাল।








কাল সকালে 


একশ' একর একটা বক্তৃতা 


যা কিনা পুরোটাই মেঠো


ছাগল ছানাও 


শুনে তিন লাফ কাটে......


ঝাড়বো


ঝাড়বই ঝাড়ব।




ক্ষমতা ডেকেছে


ক্ষমতাই ডেকেছে


হিংসা অলিতে গলিতে


গুঁড়িয়ে দেবার পৌরুষ বাসনা


সম্রাট অশোকেরও আরো কাল আগে


জপেছিল মালা


আর বলেছিল ভোগে বা ত্যাগে


শেষকথা শেষকথা।




মনে আছে তোর?


মগের মুলুক মগের মুলুক


আর বর্গিদের হানা!


ওদের চেয়ে আমরা কি নই সেয়ানা


গ্রামকে গ্রাম কেরোসিন ছুঁড়ি


জ্যান্ত বা জড় ভোগ্যবস্তু চেটেপুটে খাই


আহা, বড় তৃপ্ত লাগে


প্রসাদ নিতে ভুলিস না ভাই


ওসব ছোটমোটো ঘটনা না!








খুন চেপেছে মাথায় 


নাম তুলবি খাতায়?


তোল


হোক সোরগোল!




রাক্ষস গণ বলেছিস


আমায় ফেলে চলেছিস


যাবি যা


খাবি খা!




খুন চেপেছে মাথায় 


চললেও পাতায় পাতায়


ঠিক ধরব ঠ্যাং


না হয় মারব ল্যাং!




এঃ, ছোঃ ! ভাঙছো মূর্তি


করছো ফূর্তি


দেব না জেলেই পুরে


না হয় আমি আসবো জেল ঘুরে!








যে আকাশে এত তারা


ভয় কাকে আর করব


পথে লেখা পথ ঠিকানা


সোজা চোখে পড়ব।




পড়তে পড়তে সমাজ বাড়ি


সমাজ মাপছে আমার নাড়ি


গুরু পুষিনি গরু চরাই


রাখ জ্যোতিষী তোর বড়াই


পাঁচনের মাপ আড়াই হাত


সমাজ চলে ঐ যে তফাৎ!


ভোগবাদ আর ভাববাদ 


করছে সমাজ বরবাদ!








চারপাশ দেখে শুনে 


বাঁকা হল কথা আর বার্তা


নিজেকে বলি কত


সাবধান, ছাড় তা


যাতে আছে বিপদের গন্ধ


বলি কত ভেবে নে 


নিজে এক অন্ধ!




তা' না' হেঁড়ে মাথা


গলাবেই নাক


এখানে ওখানে ঢিল মারে


ভাঙে মৌচাক!


তেড়ে আসে দলে দলে


ফোটাবেই হুল


এই বুঝি চলে গেল


এ কুল ও কুল!








এখানে তো এত রক্ত ঝরার কথাই নয়


তবুও


এত হিংসা এত গুলি


ভূত্বক আর কত ভাগাভাগি হবে!




যৌনতায় মোড়া রাংতাগুলো


কি সশব্দ কি হল্লায়


পণ্য হয় আর


বিদ্যাধরীর চর হাটে ঘোরে।




এত রক্ত এত রক্ত


কলিঙ্গও খায়নি এত


মা গো দাবি আদায়ে এত হাঁটে!


তোর রক্তমাখা পাও হয় পণ্য।




এখানে তো এত রক্ত ঝরার কথাই নয়


তবুও.......


এত বুদ্ধ এত গান্ধী এত অনশন


সব ক্ষুধার্ত প্রেত হাসি হাসে।




১০




কালের মধ্যে কাল বসে


রক্ত মাখ মাখাও রক্ত


ও তো বাঁশিতে অস্ত্র সুর তোলে


কাল যে বদলার গোলাপ


ক্ষমাহীন গোলাপ!!




বদল আর বদলার ধারাপাতে


দুব্বোরা জল খায় এক নিঃশ্বাসে


কালো গাই আজও যায় মাঠে


ঘাস ফড়িং আজও ডাকে ব্যাঙ


ফাগুনের আগুন ছেঁড়ে কাক আর কাকিনী।




রক্ত আর রক্ত


অজস্র বমির মধ্যে


মাতৃ সদনে সদনে ওঁয়াও ওঁয়াও


প্লেটো কি ফিরে ফিরে আসে


কিংবা গ্যালিলিও!




১১




অনেকটা ফুটলে ফুল 


কয়েকটা ধরে ফল 


অনেকটা রক্তের ভুল 


একটা যিশুও পায় না জল!




অনেকটা শস্য হলে


কয়েকটা চিন্তা যায় চলে


অনেকটা রক্ত এলেও কোলে


একটাও বুদ্ধ কেউ কি আর হলে!




অনেকগুলো রাস্তায় হাঁটলে


কয়েকটা বাড়ি হাতের মুঠোয়


অনেকগুলো স্থিরতা কাটলে


সব চাওয়া পাওয়া থমকে গুটোয়!




১২




এমনটা হবে কেউ কি ভেবেছিলাম!


ঘরটা তো ছিল সূর্য্য এবং


এক্কেবারে চাঁদমুখো।




যখন খুশি হাত নাগালে


এখন ওরাই ইচ্ছে খুশি তাকায়


ওহে গার্ড এটা কেমন করে সম্ভব!




কত ঘাম,রক্ত,আনন্দে তৈরি


মন ভালো রাখা শৌখিন উদ্যান


সেটারও কি হাল!




এটা কেমন করে সম্ভব!!


ওরা কারা? জবা চোখ


এক এক করে হাসতে হাসতে আসে।




তাই বুঝি ইচ্ছে খুশির সূর্য্য চাঁদ উদ্যান


কেউ আর স্বাভাবিক নয়!


আলোতে আজ অন্ধকার গাঢ়।




১৩




অনেক বছর পর


সত্যি অনেকটা বছর পর


আবার কবি তুমি


তুমি কবি


তোমাকে ভালবেসে বেসে বলছে 


তুমি লেখ তুমি লেখ 


লেখ তুমি লেখ।




আস্তে আস্তে আমি ভুলে যাচ্ছি


ভুলে যাচ্ছি আমার যন্ত্রণা একে একে


আমার ভাঙা বাঁ হাটু বলছে


এই তো আমি, হাঁট কবি


কত লোক পা ছাড়াই তো কৃতী


আহা তোমার মাসাদুর রহমান


ভুলে গেছ বুঝি!




আমার ভাঙা কোমরেও গর্জন 


আহা কবি কিছুই হয়নি তোমার


স্টিফেন হকিং, দেখে শেখ না!




একটা একঠেঙে শালিকের সঙ্গে


পিছনের দুটো পা-ই যার লতপতে


সেই কুকুরটাকেও দেখি মাঝে মাঝে


আর চোখ বেয়ে গড়ানো জল আমার


বাষ্প হয়, মেঘ কুন্ডলী হয় 


আর তখন


চোখের ভেতর অন্য মেঘ আসে।




ভালবেসে যে যাই দিলে


ভালবাসা বা ঘেন্না


সব কুড়ালাম, এক একটা রত্ন


রোজ আমি সে সব ধোয়া জল খাই।




কারো কাছে কিছু করবি না আশা


ভুলে যাই প্রায়ই মার এ সতর্ক কথা


তাই মনে হয় এ কবি জন্ম


সাত সমুদ্দুর ভালবাসা চায় মন


ফলতঃ রক্তক্ষরণ শব্দ চিরে চিরে।




ভালবাসা কবির, আমার চাষের ফসল


হতে পারে তা অমৃত বা বিষ


কবি তো,আমি তো নিজেই খাই সেটা


আর বুক চিরে ফোয়ারার মত রক্ত ছোটে


হাততালি বাজায় কেউ কেউ


কেউ কেউ দু'উঠোন নেচে বলে


দ্যাখ কেমন লাগে


আর ঈর্ষায় জ্বলে


ঈর্ষায় জ্বলে কিছু কিছু অসমাপ্ত লিঙ্গধর!




আর যে বা যারা 


কবির, আমার মনের ভাব জানে


এ পিঠ ও পিঠ যার বা যাদের সঙ্গে


লেনাদেনা চলে অহঃরহ


সে বা তারাই বোঝে কবিকে, আমাকে


আর কবির


আমার বিষাদমূলে রাখে বিশল্যকরণী।




১৪




সবেমাত্র রাস্তাটা তৈরি হচ্ছিল


এতেই মামলা ঢুকে গেল


মনে কি হচ্ছে না কারো


এতে লাভ নেই লাভ নেই কারো


রাস্তা নিয়ে লড়াই রাস্তাটাই থমকে দিল


এসো ভাই এসো না


মামলার বাইরে মামলা সাজাই


রাস্তাটা যে চাই-ই চাই!




১৫




ক্ষমা কি গন্ধরাজ?


অতীতের সব ভুল মুছে দেয় আজ।




নদী তো তাথৈ তাথৈ নাচে


ছোট মাছ তাতেও তো বাঁচে!




ভুলগুলো ফুল হলে নদী ডাকে আয়


ফুল পেলে মাছগুলো আকাশে তাকায়।




আমি শুধু একা একা ভুল ছিঁড়ে খাই


পাগলেরই পা ঝাড়া পাগল মাধাই।




সব পাখি সুখে থাক মস্ত দালানে


আমি তো দাঁড়িয়ে আছি মস্ত মালা নে'।




একে একে ক্ষমা করি গরম রক্ত লাল চোখ


সব ঘেন্না পিত্তি আমি ভাই সাধারণ লোক।




ঈশ্বর রেখে গেল আঁকাবাঁকা পথ


ভুল করে শোধরাই দিয়ে খেসারৎ।




১৬




এস ফিরে শিশুকাল


এস হে আম আঁটির ভেঁপু


এই বিষাক্ত রোদ্দুরে


শব্দই তোল আর 


শব্দই ভাঙো মড়মড়।




কেউ আর করে না যে প্রতীক্ষা কারো


রাস্তা তো রাস্তাই 


ধ্বনিছাড়া মড়া হয়ে আছে পড়ে


নিকট সময়ে নিকটের ডাক শোনা যায়


বাকিটা সময়ে শুধুই বিকট শুধুই বিকট।




শিশুকালের রংছটারা এস যাও দেখে


নারকেল পাতা এ জীবন জানে না


জানে শুধু অকারণ কূট কাজ খালি


ভালবাসা চেয়ে দেখ মুখে মাখে বালি


খাবি খায় আধাআধি হিরোবাদী মন।




১৭




গোটাটাই ভুল হয়ে গেল?


গোটাটাই!


ভূত্বকের সব-খেকো আগুন ডাকছে তাই


যাচ্ছি ভাই, যাচ্ছি।




কিছু গাঁটছড়া, কিছু মন-টান


একে একে চোকাতে তো----


ভাই


কিছুটা সময় চাই-ই চাই।




আমি জানি ভাই


পুড়িয়ে পুড়িয়ে শুদ্ধ করতে


ভূত্বকে তোমার জুড়ি নাই


ভাই!




সীতার কাহিনী আজও লোকমুখে


জানি আমি ফিরবই ফের


সন্তানে কথা দিয়ে যাই


খাঁটি আরো খাঁটি হব।




১৮ 


*********************




কী পড়েছি ইতিহাসে?


বাল্মিকী মহাকবি


এঁকেছেন মহাছবি।




কিছু লোক ধান্দায়


সত্যি কী ভুলে যায়


ছক কাটে, ভোট চায়।




কিছু লোক অজ্ঞ


কিছু লোক সর্বজ্ঞ


অজ্ঞকে টানে রাস্তায়।




কী পড়েছি ইতিহাসে


রামায়ণ মহাকাব্যে?


গল্পের হনুমান, রাক্ষস হাসে


এ যুগে মানুষী মুখোশে


তারা আজ রাস্তায় নাব্বে।




 ১৯




কিছুটা ঢেউ ভাঙি দেখি গোলাপের চারা


হয়নি এখনও বোধকরি অ আ শেখা তার।




মুকুল এসেছিল শাখা প্রশাখায় গাদাগাদি


কিছুটা হয়েছিল জাম আর আমের গুটিকা।




তোমরা প্রকাশ্যে ঘোরাও পুরনো অস্ত্রশস্ত্র


গোপনে ভাঁটিখানা আর অস্ত্রে বারুদ ঠাসো।




নিজেরা পৌরাণিক একে ওকেও বানাতে জেদ ধরে আছো


দু'হাত অন্তর মূর্তি ও মন্দির তাই গরীবেরা খাই মাছি।




প্রশ্ন করবো না তোমরা ভবিষ্যৎ?


রাবণ বানাচ্ছো আমাদের ছাড়বে না!




সবটা ঢেউ ভাঙি দেখি শিশুরা হাসছে


সবটা অবিনয় কীট কথার মূর্খ খায়।




২০




তিরতিরিয়ে ছুটছিল বেশ মন


হঠাৎ আবার পর হল কোন আপন?


ছাড়া চুলে দুখী মনে চোখ ফেললি যেই


ভর সন্ধ্যেবেলা চাঁদ আকাশে সেই


চোখ ছলছল জল টলমল করে


তারার সঙ্গে তোর উঠোনে সেও ঝরে পড়ে।




তোর উঠোনের বাইরে যত উঠোন এবং রাস্তা


আক্রোশে সব রক্ত খেলে আর ঢেউয়ের মত আছড়ে পড়ে খিস্তি এবং খাস্তা


মূর্তি ভাঙার ব্যস্ততা ঠায় দাঁড়িয়ে প্রশাসন ঐ তো সঙের মত


আতঙ্ক সব মুড়িয়ে খেল লুঠিয়ে দিল ঘর গেরস্থালি হরির লুঠের মত


কাঁদিস না তুই তবু তো তোর চাঁদ তারারা আছে


সকাল হলে দেখবি কত ফুল ডাকছে গাছে।

Post a Comment

0 Comments