.
নাম না জানা, স্রোতস্বিনী এক নদীর ধারে বসিয়া থাকিতে থাকিতে এক মেঘলা মধ্যাহ্নে নিজের অজান্তেই অপরূপ কয়েক মুহুর্তের সাক্ষী হইয়াছিলাম একদিন। প্রকৃতি দেবতা যেনতার সম্পূর্ণ অজানা এক প্রতিকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করিবার অধিকার দিয়াছিলেন আমায় সেইদিন।
.
সকাল হইতে ক্রমাগত প্রবল বর্ষণ হওয়ার কারণে মন বড় বিষণ্ন হইয়া ছিল। নদীসংলগ্ন বনাঞ্চলের শীতল সমীরণ গ্রহণ করিবার উদ্দেশ্যেই নীরবে নদীর ধারে বসিয়া ছিলাম মধ্যাহ্নে। হঠাৎ সামান্য রৌদ্রের আভাস পাইয়া চোখ তুলিতেই একইসঙ্গে বিস্মিত এবং চমকিত হইলাম। দেখিলাম, ঘন কালো মেঘরাশির মধ্য দিয়ে কে যেন বিস্তৃত এক পথ রচনা করিয়া দিয়াছে। দেখিয়া বোধ হয়, সে পথ বুঝি স্বর্গদ্বার অবধি চলিয়া গিয়াছে। সেই পথেই সূর্যরশ্মি অনেকগুলি দীর্ঘ সরলরেখার আকারে আসিয়া যেন একেবারে পৃথিবীর ভূমি স্পর্শ করিতেছে, যেন আশীর্বাদ করিতেছে সমগ্র জগতকে।
.
আপাতদৃষ্টিতে হয়তো এ নিতান্তই সামান্য, সাধারণ এক ঘটনা, কিন্তু আমি কী দেখিলাম জানি না, সে দৃশ্য যেন আমার পার্থিব শরীর ভেদ করিয়া অন্তরকে সম্মোহিত করিয়া ফেলিল। বেশীক্ষণ নয়, ক্ষণেকের জন্য দেখা দিয়াই সে দৃশ্য হারাইয়া গিয়াছিল,কিন্তু আমার মননে সারাজীবনের জন্য এক গভীর রেখাপাত করিয়া গিয়াছিল।
.
শ্রদ্ধেয় শ্রী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় রচিত 'আরণ্যক' এর স্বাদগ্রহণ করিবার সৌভাগ্য আমার পূর্বেই হইয়াছে, তাই বোধ করি, এমন অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য অন্তরকে প্রফুল্ল করিয়াছিল সেইদিন।
.
বিভূতিভূষণ মহাশয়ও এমনই টুকরো টুকরো সৌন্দর্যরূপ পুষ্পরাজির সম্ভার রচনা করিয়া গিয়াছেন আজীবন। তিনি ছিলেন প্রকৃতির পূজারী। এমন স্নিগ্ধ, নীরব অথচ তেজোদ্দীপ্ত এই স্বর্গীয় দৃশ্য দেখিলে, না জানি, কত আনন্দই লাভ করিতেন!

0 Comments