মন নাকি মস্তিষ্ক // লেখা - প্রিয়নীল পাল

.
অনুভূতি সবসময় আমাদের দুর্বলতা, সবসময় আমরা এই অনুভূতির বসে নিজেকে নিজের নিয়ন্ত্রনের বাইরে নিয়ে চলে যায়, ভুল ঠিক এই সব যুক্তির থেকে বেরিয়ে আরো একটা কিছু আছে যেখানে সব কিছুই নিজের মতন তেমন একটা কিছুর সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠি, কিন্তু শেষ মেষ সেই অপ্রত্যাশিত কিছু অপেক্ষা করে আমাদের জন্য। আর এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য দায়ী কে! মন নাকি মস্তিষ্ক?


আমরা জন্ম থেক যতো বড় হয়ে উঠি, চারপাশের পরিবেশগত, শিক্ষাগত, সামাজিক নানান তত্ব মাথার মধ্যে চেপে চেপে ভরে রাখি, তখন আমাদের আনলিমিটেড স্টরেজ ক্ষমতার একটা সাংঘাতিক ব্যবহার আমার করি।




কিন্তু সবকিছুর তো একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে, তাই আমরা যা যা কিছু মাথার মধ্যে রাখি ওগুলো অনেক সময়ে একটার সাথে একটা গুলিয়ে ফেলি আর ব্যাস বিপদ আসন্ন।


আমরা নিয়ম গুলো মাথায় রাখি আর নিয়ম ভাঙ্গার ফন্দি গুলো মনে রাখি, এমনি তে এক্স-রে বলে বুকের ভেতর  হার আর মাংস ছাড়া কিছুই নেই কিন্তু একটা অদৃশ্য যন্ত্র আছেই যেটা মাথার সাথে একমুখী সম্পর্কে সম্পর্কিত।
এক মুখি বলার একটাই কারণ যে মাথা আমাদের যা যা শেখায় মনে সেগুলো পৌঁছায় না, কিন্তু মন যা যা চায় মাথা সেগুলো না নিয়ে থাকতেই পারবে না। অনেকটা যেনো শারীরিক সংবিধানে লেখা ।


আমরা মস্তিষ্ক ব্যবহার করি শুধু সামাজিক নিয়ম রেখে দিতে আর তার তেমন কোনো কার্যকরি ভূমিকা কই!
যেমন আমরা ভালোবাসি আমরা আঘাত পায় আবার আমরা ভালোবাসি, ধরে নিলাম ভালোবাসা টা মাথা জানে ‘ভালো’ কিন্তু একবার আঘাত পাওয়ার পরে তো সে বুঝে গেলো যে আর ভালোবাসা ‘ভালো না’ তাহলে আবার কেনো একই ভুল একই কষ্ট! কারণ সেই মন।



মন ভালোবাসা টুকু নিয়ে রেখে দিয়েছে আর সেটাই বারে বারে মাথায় যাচ্ছে কিন্তু মাথার সঞ্চিত কোনো অভিজ্ঞতা মনে যাচ্ছে না আর যেতে পারবেও না, তাই আমরা সব জেনেও আঘাত পেতে যায়।


বৈজ্ঞানিক তত্ব অনেক কথাই বলবে কিন্তু ‘অনুভূতি’ বলে যে বিশাল ক্ষমতাশালী এক অস্তিত্ব আছে তার নিয়ন্ত্রণ থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে পারবে না।


বিবাহের পরে আবার ভালোবাসা মাথা জানে পুরো অসামাজিক কারণ সমাজ এটাই লিখেছে, না লিখলে আলাদা বিষয় ছিল, তবে লিখেছে এটাই। মাথা তাই জানে সামাজিক অসামাজিক এর পার্থক্য। এরপরে কারোর প্রতি দুর্বল হওয়া উচিত নয়, তখন কোনো ক্রমে একটা আলতো স্পর্শ কিংবা দর্শন নাড়া দিলেই খবর চলে যায় অনুভূতির কাছে সঙ্গে সঙ্গে খবর আসে মনে আর মন তার সমস্ত কিছুই মাথাতে পাঠিয়ে দেই, শুরু হয়ে গেলো নিয়ম ভাঙা, তখন আর মস্তিষ্কে থাকা সেই সমাজতত্ব কোনো মতেই কাজে দেবে না।


মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ কিন্তু মন!
সেটা সব নিয়ন্ত্রণের বাইরে সব কিছুর উর্ধে।
তাই যতবার মন ভালোবাসার কথা বলবে সেটা হবে সবথেকে সাহসী আর মস্তিষ্ক ভালোবাসার কথা বললে সেটা সবথেকে স্বার্থপর কারণ মাথায় বিচারবিশ্লেষণ বসে আছে আর মনে থাকেন অনুভূতি।


যদিও আমরা সবাই ভুল করি, মনের ভালোবাসা গুলোকে বড্ড অস্বাভাবিক ভেবে ছুড়ে ফেলে দি আর মস্তিষ্ক কেই আপন করি আর এখানেই জিতে যায় অনেকটা সময় ধরে হেরে থাকা মস্তিষ্ক।



Post a Comment

0 Comments