তিন টানে // বিশ্বনাথ পাল

031

সদ্যোজাত যুবক ছুটছে প্রাণপণে
মায়াহীন একটু মাটি খুব দরকার

নিজেকে বাঁচতে হবে, অন্যকে বাঁচাবার

মহামায়ার আগারে নেই মায়াহীন তিলার্ধ

মাটি। উলঙ্গসন্তানের পিছনে কাপড় হাতে

ছুটছে ব্যাসদেব আর চিৎকার করে বলছে

পুত্র দাঁড়াও একটিবার। মহী তলে জন্ম নিয়ে

কিছু শিক্ষা লহ, পশ্চাতে ছুটিও মোক্ষ হেতু।

এস পুত্র  না করি অন্যথা, শিক্ষা কর জীবনের

রসদ। ছুটন্ত যুবক ছোটে তবু অবিরাম। চিৎকারি

কহিছে পিতা যে শিক্ষা মানুষেরে করে না বিতকাম

আমার কাছে সে শিক্ষার নাই কিছু দাম।

দেখ পুত্র, বৃদ্ধ আমি তুমি  যদি না থাম তবে ধীরে চলো শোন দিয়ে মন

 ব্রহ্মচর্য - গার্হস্থ্য - বানপ্রস্থ - সন্ন্যাস

ভিন্ন জীবন নিষ্প্রয়োজন। সেই হেতু না লঙ্ঘিবে আমারবাণী, চলো পুত্র নিজালয়ে শুনিতে ধর্মের অমোঘ বাণী। পুত্র কহে তদুত্তরে হে মোর জন্মদাতা

ব্রহ্মচর্য যদি হত জীবনের নিদান

নপুংসকেরা ইষ্টে পেয়ে হত পূণ্যবান।

গৃহস্থে থাকিলে ইষ্ট মিষ্টি হত জগত

সংসারী মানুষের মোহে পিচ্ছিল হত না মোক্ষের পথ। বানপ্রস্থ হত যদি মুক্তির নিশানা

পশুপক্ষী ভবঘুরে আনন্দে আটখানা

হয়ে জগতে বিষ নিয়ে আনন্দের ভেলায়

পাপী তাপীর সদ্গতি হত এক ঠেলায়।

সন্ন্যাস পন্থা যদি মহামোক্ষ আনে

অতএব সাধু সাবধান লেখা হত না অভাধানে

ভিখিরি হয়ে যারা ভিক্ষা হেতু বনে যান সাধু

মুখেতে ঝলসে ওঠে ঘড়া ঘড়া মধু

সেই হেতু লিখলাম বিশ্রাম। মায়া মোহ

যজ্ঞ নাশের সার্থক পরিনাম।


তারও অনেক পরে গৌরাঙ্গ অবতারে

বিলালে মধুর হরিনাম। পাপী তাপী উদ্ধারিতে

প্রেম করি সার। জগতে ভাসালে  নৌকা

নাম যশ। নবদ্বীপ হতে মথুরা বৃন্দাবনে।

শ্রী ক্ষেত্রে জগন্নাথ ধামে সমুদ্রে মেশালে

ঘনীভূত প্রেম-উদার। শান্ত। সীমাহীন


আবার উঠিলে ভেসে অহৈতুকৃপায়

অধর্মের শানিত স্রোতে আর একবার

সত্যকথা কলির তপস্যা একই শোনালে

 যত মত তত পথে চেনালে জগৎ।

জ্ঞানে শিব গুরু ত্যাগের মহান

দিলে শুধু তিন টানের নিদান

বিষয়ীর বিষয়ে টান, সতীর পতিতে টান

মায়ের সন্তানের টান  তিন টান

এক হলে মিলে ভগবান।।

Post a Comment

0 Comments