১
ফলে মাছে
ঘাসে গাছে
সবুজ ধানে
জলের গানে
মোরগ ডাকে
ঘুম কাটে
জলে ছায়া
সব মায়া
দখিণ হাওয়া
গান গাওয়া
ভোরে ধোঁয়া
ধানে রোঁয়া
বাটনা বাটা
দিদির চাঁটা
গাছে চড়া
বই পড়া
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
২
খাল বিল
এক ঢিল
বক তাড়ি
কৎবেল
ঝাল তেল
মেখে মারি
তেঁতুলে
ছাল ছুলে
নুন ঝাড়ি
কাঁচা আম
বুনো জাম
নুনে জারি
কপাকপ
টপাটপ
চ এ চিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
৩
ধান গাছ
বিলসে মাছ
হাতে ছিপ
হৈ হৈ রৈ রৈ
ধরছি কই
টপ টপা টিপ
তিড়িং বিড়িং
মিংকা মিড়িং
ছাগলছানা
লাফায় ঝাঁপায়
এ পায় বাঁ পায়
তালকানা
কান ধরে
মুললে জোরে
পালায় দূরে
কথা নেই
বার্তা নেই
আসছে ঘুরে
মাছের নেশা
নয়তো পেশা
ছানারাই দিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
৪
কোন গাঁ
বাড়ি তোর?
বনগাঁ?
তুই চোর?
কার কাটলি
কটা পকেট?
কি গাঁথলি
সোনার লকেট?
এখানে থাকলি
কে আনল?
নাল মাখলি
পিঁপড়ে জানল
কিছু বল
কিছু খাবি?
পিছু চল
ইসকুল যাবি।
শুনব না
কোন কথা
গুনব না
এক সাত তা
ছ এ ছিঃকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
৫
কান ধরি
চুপচাপ
পিঠে চড়ি
ব্যা ভ্যা
ঠ্যাঙ টানি
চুপচাপ
চাপকানি
ব্যা ভ্যা
সুড়সুড়ি
চুপচাপ
হুড়মুড়ি
ব্যা ভ্যা
কচি ঘাস
চুপচাপ
কাটে ডাশ
ব্যা ভ্যা।
মা বলল
যাও হাট
বাবা চলল
ব্যা ভ্যা
আমি কাঁদলাম
এন্তার এন্তার
মন বাঁধলাম
ব্যা ভ্যা
ফিরল আবার
খদ্দের নেই
দুঃখ বাবার
ব্যা ভ্যা
কি কি কিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
৬
মাগো
কি গন্ধ
জাগো
বন্ধ বন্ধ
তুমি কি
অন্ধ
ঘাড়ি কি?
সন্দ
হলো দূর
ঘাড়ে
ঘা পুচুর
কি দেবা?
ফিনাইল
ন্যাপথালিন?
এক ফাইল?
গন্ধ বিলীন।
হায় পুচু
কেন গেলি
মিচিমুচু
মার খেলি
সেরে ওঠ
দেখে নেব
পটাপট
এমন দেব
কেলে হবে
দিল্লী পার
তুমি হবে
ধর্ম ষাড়
হি হি হিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
৭
বকখালি
হাততালি
খালি খালি।
বকখালি
সাদাবালি
ঢেউ খালি।
বকখালি
ঝাউ খালি
চ' না কালই।
নামখানা
ছাড়িয়ে
হাতখানা
বাড়িয়ে
সব মানা
মাড়িয়ে
দেহখানা
নাড়িয়ে
চ' না কালই
বকখালি।
জম্বুদ্বীপে
ভুটভুটি
এক টিপে
ছুটোছুটি
হেনরীতে
বনসবুজে
হ্যাচারিতে
মাছ খুঁজে
সাগরের ঢেউ
জলে কেউ কেউ
ঢি ঢি ঢিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
৮
বাঁধ ভাঙলে সেবার
কাঁধ সমান জল
গাই বাছুর ঘরে
খাই দাই একসাথে
গলাতে দিলে সুড়সুড়ি
বলাতে কিছু লাগেনা,
পশুও বোঝে সব
ফশুও সব বোঝে।
সন্ধ্যা নামলেই বিভীষিকা
বন্ধ্যা সময় কাটেনা
লতার ভয় নামে
কথার সাড় নেই
মাকে জড়িয়ে থাকা
কাকে কাকে ভয়
আর বলা হয় না
ভার থাকে মন
ভিকু ভি ভি
মিকু ইকু
পিকু রিয়া।
৯
সারাবেলা
আদরের ঠ্যালা
কিন্তু,
রোগে
ভোগে
সিন্তু মিন্তু,
ছাগলছানা
খটাসহানা
পারেনি মারতে
ফোটাবই সুঁই
পারবি না তুই
কাড়তে,
বাবা যাবে
ওষুধ খাবে
পাহারায় আমি
লোম ফের
ফিরবেই রকমফের
বলেছে ন'মামি,
ঝি ঝি ঝিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
১০
সন্ধ্যে রাত
ছায়া ছায়া হাত
রাত বাড়ল
ঘুম কাড়ল
তেনারাই সব
ধরলেই টপ
করে ঘাড়
মটকাবে
রক্ত খাবে
দুনিয়ার বার
বাপরে কি মার।
এইতো সেদিন
এল গুনিন
বোতলে করে
কপাকপ ধরে
একেক্কে পাঁচ
বন্ধ সব নাচ
বাবা বলে
বুজরুকি
আমাদের চলে
উঁকিঝুঁকি
হি হি হিকু
ইকু মিকু
রিয়া পিকু।
১১
চরম আদরে
গরম চাদরে
মুড়ে সারা দেহ
শীতের আমেজে
অপরূপা সেজে
ঘোরে পাড়া কেহ।
ভোরে ভোরে
শিউলি ঘোরে
পাড়াতে পাড়াতে
খেজুরের রসে
জিভে লাল খসে
তর সয় না দাঁড়াতে।
ফেলে ডাংগুলি
সেজে গাঙ্গুলি
হাঁকাচ্ছে ছক্কা
দুপুরেতে ভাত গিলে
আমি আর দিদি মিলে
গেমে মজি টরে-টক্কা।
১২
ধানের শীষে
টুপটাপ শিশির
ঠোঁটের বিষে
ঘিশির ঘিশির
কি দেওয়া দরকার?
মা বলেছে
ভোরের শিশিরে
বাবাও বলেছে
মিশিরে তাই মিশিরে
পাল্টাই চেহারা ঠোঁটটার।
১৩
নতুন ঘরের ভিতে
হবে একটা জমজমাটি
বনভোজন মন ভোজন।
আমরা চার পিটপিটে
মিলে চাল আলু কলাটি
এনেছি দেখো ওজন।
এনেছি কাঠ
ইঁটের চুলোও
বানিয়েছি।
রান্নায় আকাট
চারদিক ধুলোয় ধুলোও
তবুও মুরগী আনিয়েছি।
উঁচিয়ে কলার
এক হাঁড়িতে সব চাপিয়ে
আগুন দিলাম চুলোতে।
অবশেষে চাল আলু কলার
মুরগীর বাস ছাপিয়ে
লাফানি লুটোপুটি ধুলোতে।
কাটিয়ে হাতাতে
খাই কলার পাতাতে
ঠোকাঠুকি চার মাথাতে।
১৪
লোকটা
সারা হাট ঘুরে
বাঁশি বেচে
সুরে সুরে
মন ভরে যায়।
তাপ্পিমারা
জামাটায় পকেট কত
থলে ভর্তি বাঁশি
কিনে নাও মনের মত
সুর ডেকে যায়।
সাদা চুল
মাজাটা পড়েছে ঝুঁকে
চলার বিরাম নেই
লোক ডাকে বাঁশি ফুঁকে
সুর তুলে যায়।
১৫
মায়া নেই মনে
হাতে মারে
তবু নেই সুখ
আদেশ হয়
একনাগাড়ের ওঠবোসের।
পিটে পিটে
মন টেনে আনা যায়?
মন যে পড়ে থাকে
গাছে মাছে
কি করব স্যার! ও স্যার!
১৬
ভিডিও কল - রুবিনাকে পিকু
..............................
এই রুবিনা রুবিনা
দিনের বেলা শুবি না
যদি শুস না শুনে রে
মুটিয়ে যাবি তিন গুণে রে।
রুবিনার উত্তর
...................
পিছন পাকা পিকু
যেই চাপে রিস্কায়
চাকাগুলো বেঁকে গিয়ে
এ ওকে কিস্খায়।
১৭
ভিডিও কল - রুবিনাকে রিয়া
.....................................
রুবিনারে রুবিনা
কেক প্যাস্ট্রি ছুঁবিনা
খেলে ওসব মুটিয়ে যাবি
মোটু মোটু আওয়াজ খাবি।
উত্তর : রিয়াকে রুবিনা
..............................
আহা রিয়ারে
থাকিস বসে চিয়ারে
ওজন তো তোর আশি
রোজ বকা দেয় মাসি।
১৮
ভিডিও কল - ইকুকে রুবিনা
...................................
ইকুরে তুই বিন কড়াই
তোর সঙ্গে নেই লড়াই
তুই বোনটি ভাল
তোর মনটি টুনি আলো।
উত্তর : রুবিনাকে ইকু
............................
ঠিক বলেছিস পটলদি
কিন্তু শোন জলদি
তোর মতো হয়না দিদি
ভাবছি আমি তোকে কি দি।
১৯
ভিডিও কল - মিকুকে রুবিনা
.....................................
মিকু ভাই মিকু ভাই
তুমি সোনা বাবু ভাই
ক্যাডবেরি তোকে দেব
গাল ভরে হামি দেব।
উত্তর : রুবিনাকে মিকু
..............................
তুই দিদি বড় ভাল
হামি দিস জমকালো
ক্যাডবেরি শুধু কেন
বার্গার পাই যেন।
২০
ভিডিও কনফারেন্স : বিষয় : শিক্ষার হালচাল
স্থান : শিক্ষাপুর, কলার : পিকু
অন্যান্যরা : ইকু, মিকু, রিয়া ও রুবিনা।
-------------------------------------------------------------
১
পিকু : আগত সবাইকে জানাই স্বাগত।
অন্যান্যারা(একসঙ্গে) : মহা স্বাগত।
পিকু : শিক্ষাপুরে সত্যিই শিক্ষার ফল
ফলছে।
ইকু : নিশ্চয়ই, না হলে এখানে একসঙ্গে এত
স্কুল চলছে!
মিকু : চারদিক বিজ্ঞাপণে গিয়েছে ছেয়ে।
রিয়া : মনে হচ্ছে বাচ্চারা বড় হবে বিজ্ঞাপণ
খেয়ে।
রুবিনা : রিক্সাওলাও হাজির বিজ্ঞাপণ পেয়ে।
২
পিকু : ফ্রি প্রাইমারি তকমা পেয়েছে খিচুড়ি
স্কুলের।
রুবিনা : এস এস কের কপালেও জুটেছে ছাপ
একই ফুলের।
রিয়া : বাদ নেই এম এস কে আর জুনিয়র
হাইও।
মিকু : এর বাইরে আর কিছু নাইও।
ইকু : এবার তাহলে শিক্ষা কিনতে অন্য
কোথাও যাইও।
৩
পিকু : তাহলে প্রথম চলো জ্ঞানালয়ে।
যেতে পারি বোধোদয়ে। না হলে
জ্ঞান পিপাসায়। জ্ঞানজলসায়?
হ্যাঁ তাও যাওয়া যায়।
ইকু : অকারণ বইয়ের বোঝা।
মিকু : দায় হয় মাজা রাখা সোজা।
রিয়া : এলেবেলে টিচারকুল।
রুবিনা : হম্বিতম্বিতে নাম্বার ওয়ান বিলকুল।
ছুতো নাতায় পয়সা আদায়ে করেনা
ভুল। হ্যান করেঙ্গা ত্যান করেঙ্গা
মারছে খালি গুল।
৪
পিকু : ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে
সব। যেমন ছিরি নামের তেমনি লক্ষ্য
নিয়েও নীরব।এক একটি শিক্ষাগর্ধভ।
রিয়া : লক্ষ্যের চেয়ে উপলক্ষই বড়। মান?
মান চুলোতে যাক টাকা পেমেন্ট কর।
মিকু : শিক্ষাপুরের শিক্ষাশালায় প্রোডাক্ট
তৈরি হয়।তা ঝাঁ চকচকে মোড়ক
মোড়া সমাজ বৈরি হয়।
রুবিনা : নিজেকে ছাড়া কাউকে চেনে না।
এমনকি মাঝে মাঝে মনে হয় এরা
নিজেকেও চেনে না। দেশ নয়, মাটি
নয়, মা নয়, শুধু মস্তিতে বাঁচো। টাকা
টাকা করে শুধু হিঁচ্চা হিঁচিং হাঁচো।
ইকু : নিজেদের দোষে ডুবে মারি তোকে। হায়,
ঝাঁ চকচকের, অকারণ শৌখিনের কদর
করছে লোকে।
৫
পিকু : ভুলে ভরা বই।
সাত ভূতে খায় কমিশনই।
রুবিনা : ব্যবসা বাড়ছে চড়চড়।
শয়তান ওড়ে ফড়ফড়।
রিয়া : খাতারও নেই শেষ।
চুপ, শিক্ষা চলছে বেশ।
ইকু : প্রজেক্টের জোয়ার!
কিছু শিখুক না শিখুক থাকবোই গোঁয়ার।
মিকু : পয়সায় পয়সায় শিক্ষা ওড়ে
তোমার বাড়িতে যায়।
হায়, হায়, হায়!
২১
চুক চুক চুক চুক
খুকু খায় দুদু
মাঝে মাঝে কি যে হয়
কাঁদে শুধু শুধু
কাঁদে আর বলে
ওঁয়াও ওঁয়াও
কই গেলে মায়েরা
গালে হাত ছোঁয়াও!
ঘিরে যদি তারে ধরে
ইকু মিকু পিকু রিয়া
কি হাসি কি হাসি
খিলখিল দরদিয়া।
২২
গান শোনে কান
না না কান শোনে গান।
মাছ দিয়ে ভাত খাই
না না ভাত দিয়েে মাছ খাই।
ট্রেনে করে অফিস যাই রোজ
না না অফিস যাই ট্রেনে করে রোজ।
থোড় বড়ি খাঁড়া খাঁড়া বড়ি থোড়
ঘাস বিচালি ঘাস না না রাখ পাকামো তোর।
২৩
হাঁটতে হাঁটতে হাঁ
কুয়াশা চলেছে ঘিরতে গাঁ।
টুপটাপ পড়ছে তো পড়ছে
শিশিরেরা পাতাতে ঝরছে।
নাড়া খেলে গাছ
শুরু শিশির শিশির নাচ।
ভোরবেলা হাঁটছি
কুয়াশা ঘাঁটছি।
২৪
পয়লা বোশেখে
কে কাকে
এমন করে ডাকে!
পরাজিতের উৎসব
নীরবে নীরব
এমনই হয় সব।
বড়রা মেনেছে হার
সাজানো ডিজের পাহাড়
আহা,কি হুল্লোড়ের বাহার!
২৫
শীত শীত শীত
রোদের সঙ্গে খেলছে কিৎ কিৎ।
হারছে যত মন খারাপ
মেজাজ হচ্ছে রাফ যা রাফ!
কি বলব হায়! ঘোর কলিকাল
শীতের আমেজে এ কি হাল!
২৬
হাতঝাড়া পিঠে
মিকু ইকু রিয়া মিলে
বানিয়েছে মিঠে
কপাকপ গিলে
পড়তে না পড়তে
থালা শেষ
আহা, সময় কে দিচ্ছে গড়তে
আহা বেশ বেশ বেশ!
২৭
রাজ হাঁস
সবুজ ঘাস।
জলা জলা
ধীরে চলা।
গাছে গাছে
ঘেরা আছে।
নেই মারামারি
নেই তাড়াতাড়ি।
২৮
কান চেপে গান করে
বড় এক শিল্পী
গোঁফ তার ছোট ছোট
বড় তার জিলপি
ঘর ছেড়ে সুর ছোটে
ও পাড়ার আড্ডায়
ধর ধর পড়ে গেল
মণি মাসি গাড্ডায়।
২৯
দশভূতে ছিঁড়ে খেল
অংকের মাথা
কোথা থেকে কি যে হল
কি যে হল যা তা
গুঁফো স্যারের গোঁফজোড়া
রেগে ফুলে ঢোল
খাতা ভরা লাল চিকে
হাত খুলে গোল
দিতে ভাল লেগেছিল
দিয়েছেন তাই
আজ আমি কেড়ে নেব
ঐ পেনটাই।
৩০
মালেন মালেন
মালেন মালেন
কি মজা ছুটি আজ
কিনব গোলাপ দুটি গাছ
সেই গাছেতে ফুটলে ফুল
সঙ্গে নেব জুটলে কুল
মাকেই দেব এসব কিছু
দেখবি যদি আসিস পিছু।
মালেন মালেন
মালেন মালেন
মা যখন ফ্যান গালেন
ছাগলছানা উঠোনেতে
তিড়িং বিড়িং খেলেন
কুকুরছানা তারপাশেতে
ক্যাঁও ক্যাঁও চলেন।
মালেন মালেন
মালেন মালেন।
৩১
কাট্টু কাট্টু কাট্টু কাট্টু
নিজেকে ভাবিস লাট - টু
র্্যালা মেরে ঘুরছিস
এটা ওটা ছুঁড়ছিস
ব্যাপারটা কী বলতো ?
মাঠে যাই চলতো
বনবন ছুটি
মা বানাচ্ছে রুটি
সঙ্গে কষা মাংস
করবো এসে ধ্বংস
অধিকাংশ!
৩২
দাদু : কী মেখেছিস মুখে রে তুই
কী মেখেছিস মুখে!
তোকে দেখে উছল হাওয়া
লাগছে আমার বুকে।
নাতনি : আগে যদি জানতাম আমি
দিদার ক্রীমে যাদু
মুখে মেখে তোমায় আমি
কাবু করতাম দাদু!
৩৩
পিঠে খেলে মার হাতে
লাগে বড় মিষ্টি
পিঠে দিলে ঐ স্যার
লাগে অনাসৃষ্টি।
যেদিন অংক হয় না
বৃষ্টিকে ডাকি আয় না
সব কিছু ভেসে গেলে
স্যার গাড়ি পায় না!
৩৪
গান গান গানটা
গান চাই একটা
পাখি মারে লোকটা।
ঐ গানে লোকটাকে
লোকটার মনটাকে
মারি ওর ঝোঁকটাকে।
৩৫
মন মানে না
মন মানে না
বাবা কেন খেলে তাস
মা কেন খেটে মরে
কেউ জানে না
কেউ জানে না।
মন মানে না
মন মানে না
টাকা আনাই সব?
বাকী সব গলগ্রহ?
কেউ জানে না
কেউ জানে না।
৩৬
শীত শীত সকালে
কেউ যদি বকালে
রাগ রাগ মুখে
বাড়ি মারি বুকে।
কান ধরে উঠবোস
করি আমি গোটা দশ।
তোদের কি হাসি
বানভাসি, বানভাসি!
৩৭
প্রজাপতি আর মল্লিকা
বন্ধু তারা বললি তা
কিন্তু রূপে জেল্লা কার
গুণেই বা কার পাল্লা ভার?
শীতের হাওয়ায় দুলছে ফুল
প্রজাপতি ভুলছে ভুল
জোরসে ধরে ফুলের হাত
দুলছে সেও ফুলের সাথ!
শীত ফুরালে হবে কি
ভাবছে সেটা তবে কি?
ভাবার এতে কী আছে
পরের শীত তো গা'র কাছে!
এক এক সময় উচ্ছ্বাসে
যায় যায় সে মুর্চ্ছা সে
এসব কথা বললি কই
প্রশ্ন করলে চললি ঐ!
৩৮
ঝিংকাড়া ঝিংকাড়া ডিজে ডিজে
গানে গানে নাচি নিজে
এটাই হল আসল গান
এই তো আসল কান কামান
কান ফাটে আর বুক ফাটে
পিকনিকেতে গান মাঠে।
ঝিংকাড়া ঝিংকাড়া ডিজে ডিজে
নাচি ঘামি ঘেমে নাচি যাই ভিজে
কানকাড়া কানমারা ডিজে ডিজে।
৩৯
সব চেয়ে সোজা কি
সব চেয়ে সোজা?
শীত রাতে চুপচাপ
ঘুমে চোখ বোঁজা!
সব চেয়ে সোজা কি
সব চেয়ে সোজা?
একমনে অংকের
সমাধান খোঁজা!
সব চেয়ে শক্ত
শক্ত কি?
মনে প্যাঁচ আছে যত
তকতকি!
সব চেয়ে শক্ত
শক্ত কি?
চাইলেই দিতে হবে?
হক তো কি!
খোঁজা খুঁজি করে দেখে
ঠক্ত কি?
সব কিছু চাইছো?
ভক্ত কি!
৪০
ভোর ভোর উঠে আমি
রোজ ধরি বাস
মাঝপথে ড্রাইভার নামে
সারে বাড়ে ঘাস!
কি শীতে কি গরমে
বিড়ি টানে বাসে
রোজ রোজ ঝামেলা
তেড়েমেড়ে আসে।
যেসব ভিখিরি আসে
কান কালা, চোখ কানা
ভিক্ষা শেষে বসে পড়ে
আইনে দিয়েছে যে সিটখানা।
আগে ছিল খুচরো দাও
উল্টোটা ঘুরে এল
হাতাহাতি লেগে গেলে
হায়, বাস থেমে গেল!
0 Comments