তৈমুর খান এর তিনটি কবিতা

https://www.sahityakaal.com



হেমবর্ণ ঈশ্বর

___________________________

 এখন অনুমান করে নিতে পারছি

সব রমণীরাই এক একটি সাদা ঘোড়া

প্রেমিকেরা তাদের পিঠে চড়ে চলে যাচ্ছে

দূর নক্ষত্রের দেশে


আমরা বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে থাকছি


মাঠময় আমাদের কুঁড়ে ঘর

ঘরে ঘরে কোলাহল জেগে আছে

অভিব্যক্তির চড়া রোদে শুকিয়ে নিচ্ছি ব্যঞ্জনা

আর কৌশলগুলি নিরর্থক বহ্নিশিখা

আগুন জ্বালাবার তালে আছে


এক একবেলা মেঘের পাহাড়ে

কল্পনার ছেলেমেয়েরা খেলাধূলা করে

প্রেমিক প্রেমিকারা তাদের দিকে রুমাল ছুঁড়ে দেয়

সেইসব টুকরো রুমালে নৈসর্গিক ভাষা চিকচিক করে ওঠে


আমরা সদর্থক জীবন ভিক্ষা পাই

আমরা গোধূলির পাঠশালায় হেমবর্ণ ঈশ্বরকে দেখি


যে আমাদের প্রত্যয় জাগায় প্রত্যহ

---------------------------

শুধু পা

__________________


শুধু পা দেখা যাচ্ছে

কেউ কেউ হেঁটে যাচ্ছে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত

মানবসমুদ্রের ধারে বিকেল প্রহর

আমি শুধু ঢেউ গুনছি নীল লাল রূপোলি ঢেউগুচ্ছ


বৃহৎ হাতের তালুর মতো আকাশ কয়েকটা রেখা টেনে দিয়েছে

ভাগ্যরেখা হৃদয়রেখা শিরোরেখা এইসব হিজিবিজি

রেখাগুলির মাঝে মাঝে মেঘের রুমাল বেড়াল হয়ে যাচ্ছে

আমি কল্পনার স্বপ্নগুলিকে কিছুতেই পায়রা হতে দেবো না আজ


কতদূর সমুদ্র কেউ জানে না

ভূগোল পড়াতে পড়াতে নীলুফা রহমান

চোখের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন সেই অদৃশ্য সমুদ্র

আমরা উদাসীন হয়ে তাকিয়ে ছিলাম তার মুখের দিকে

গোল ভরাট মুখটি তখন বলে যাচ্ছিল বায়বীয় শূন্যতার কথা


সেইসব শূন্যতার দিকে যেতে যেতে আজ ফিরে আসছি


পাকা আপেলের মতো আজ ধুলোর ঘ্রাণ আসছে

আজ যত ইচ্ছে ছাইভস্ম মেখে নিতে পারি


ভালোবাসায় ভরে যাক কলঙ্কের দাগ


---------------------------------

স্নেহপাখি

___________________


আমি শুধু নামিয়ে রাখছি অন্যমনস্কের ভার

আমি শুধু মেলে দিচ্ছি দিনান্তসমাচার


উঠোন ঘিরে নামছে স্নেহপাখি

আলোয় আলোয় তাদের উড়তে দেখি

প্রশ্রয়ে নেচে ওঠে অনুভূতির ঘর ।

Post a Comment

0 Comments