তিনি চারিত্রিক, আপনি চরিত্রহীন, সে নিজেকে খারাপ করেছে, তুমি খারাপ এই সব ট্যাগ লাইনতো নিত্য বিনোদনের খোরাক। কিন্তু তিনি বা সে কতটা চরিত্রবান আর কতটা চরিত্রহীন সেটা এবং আদেও তারা চরিত্রবান ও চরিত্রহীন নাকি সেটা কি করে বুঝবেন বলুন!
আসলে যুগের সাথে সাথে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে চরিত্রবান চরিত্রহীন এই সব কিছুর ধারণা সংজ্ঞা সব বদলে গিয়েছে।
আজকাল দশটা পাঁচটা ছেলে মেয়ের একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকাটা যেনো কোনো ব্যাপারই নয়।
গনতন্ত্র থেকে ভালোবাসা তারপরে নারীবাদী তত্ব এই সব যেনো অলিখিত সব কিছুর অনুমতি দিয়ে রেখেছে। তবে এই সব কিছুর একটা স্বাধীন সত্তা আছে, সেই সত্তা বেঁচে থাকবে শুধু স্পষ্টভাবে নিজেকে প্রকাশ্যে রাখতে পারলে।
তুমি চারটে পাঁচটা ছেলে মেয়ের সাথে শারীরিক থেকে মানসিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকবে তবুও একটা অতি চরিত্রবান মানুষকে তুমি চাইবে, যার কাছে তুমিই প্রথম মনের মানুষ তাহলে ক্ষমা করবে তুমি চরিত্রহীন। তুমি চরিত্রবান তখনই যখন চারটে পাঁচটা ছেলে মেয়ের সাথে থাকা অন্য কাউকেই নিজের শেষ সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে পারবে !
আছে কি প্রকাশ্যে এই শিকার করে গ্রহণ করার ক্ষমতা!!! আজ যুগের সময়ে প্রেম ভালোবাসা যৌনতা কমোন মেনে নেওয়াই যায়! কিন্তু তা বলে অনেক অনেকের সাথে নিজেকে লিপ্ত করেও নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা প্রমাণ করা এবং নিজের জীবন সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনি কে সব থেকে বিশুদ্ধ চাওয়াটা সম্পূর্ণ ভুল এটাই সব থেকে বড় চরিত্রহীন মানসিকতা।
এখন প্রেম যেমন সারাদিনে তিনবার খিদে পাওয়ার মতোন শুরু হয়ে গিয়েছে আর যৌনতা তো রোজ নিয়ম করে স্নান করার মতোন তাই দুটোই অতি স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য কিছু সফল সম্পর্কের জন্ম হয় মানছি কিন্তু বেশি হয় সম্পর্ক বিচ্ছেদের গল্প, কারোর আবেগের হত্যা করার গল্প।
এই হত্যা করার পরে অন্য কোনো মানুষ কি সেটা শিকার করে তার মতোন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অন্য একজন মানুষকে নিজের মনের মানুষ করতে পারবে ? ? যদি সত্যিই পারে তাহলে সত্যিই এত কিছুর পরেও তাকে চরিত্রবান বলা যেতেই পারে।
যারা কোনো নিষ্পাপ মন কে নিজের সাময়িক চাহিদা পূরণ করার জন্য অন্য একটা মানুষকে পুরোপুরি স্বপ্ন সফরে নিয়ে চলে যায়, এবং তারপরে তার নিজের একাধিক চাহিদার জন্য সেই অন্য মানুষটাকে একের পর এক পরিস্থিতির মার খেতে হয় তখন সেই সব মানুষদের চরিত্রহীন ছাড়া কিছুই বলা যায় না!
তুমি এক থেকে দশটা ছেলে কিংবা মেয়ের সাথে অতি ঘনিষ্ঠ থাকতেই পারো তুমি তো আর কাউকে জোর করে কিছু করছো না, কিন্তু এই ঘনিষ্ঠতার পরেও যখন তুমি নিজেকে ভালোবাসাই আঘাত খাওয়া প্রমাণ করে আরো কিছু ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিতে চাও তখন তোমায় অতি চরিত্রহীন ছাড়া কিছুই বলার থাকে না।
ছেলে মেয়ে যেই হোক জীবনের পরিস্থিতি অনেক সময়ে তাদের কে বাধ্যকরে নিজেদের চরিত্র গুলোকে শেষ করার জন্য কিন্তু তাদের কে যারা নিজের করে নিজের মতোন রাখতে পারে তাকে সত্যিই আদর্শ বলা যায়।
আড়ালে রেখে নিজেকে সতী কিংবা রাম না সাজিয়ে রাখলেই হয়, তার থেকে নিজে যেমন তেমনটা যারা দেখাতে পারে এবং সবার সাথে থেকে কারোর দায়িত্ব নিতে পারে তাকে চরিত্রহীন বলা যায় না বন্ধু! আসলে যুগের সাথে সেই আসোল চরিত্রবান।
আর যারা সব দিকে হাত অদল বদল করেও নিজের হাত গুলোকে বড়ই সঙ্গীহিন প্রমাণ করতে সদা তৎপর তারা উপর থেকে যতোই সামাজিক চরিত্রবান হোক না কেন অবশেষে দিনের শেষে তারাই সব থেকে বড় চরিত্রহীন।
কোনো মেয়ে কিংবা ছেলে যখন অনেকের সাথে ঘুরে বেড়ায়, বাইক চড়ে, চুমু থেকে ঘুমু করে তাহলে স্বাভাবিক ভাবে তাদের সবাই চরিত্রহীন বলবেই, কিন্তু তারা যতক্ষণ সবটা প্রকাশ্যে করছে এবং যা করছে বলার সাহস রাখছে তারা কিন্তু চরিত্রহীন নয়,
তারা চরিত্রহীন তখনই যখন তারা করছে এই সব কিছুই কিন্তু আবার নতুন কারোর কাছে উপস্থাপন করছে একটা বানানো গল্প একটা এমন পরিচিতি যেন সে কিছুই করে নি করতে চায় ও না।
লেখাতে ইতি টেনে এটুকুই বলবো নিজেদের কেমন রাখবে সেটা নিজের কাজের আর ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে।
0 Comments