জীবনের বিস্তার
জলেই ভেসেছে শুধু
ভাসাতে পারেনি
কম তো লাফায় নি সে
বালতির গায়
কখনো বা
বালতি চেপে
উঠেছে ডাঙ্গায়
কুয়োর পাড়ে বসে
যত দুর চোখ যেতে পারে
যত বেশী দেখা যেতে পারে
যত বেশী জানা যেতে পারে
তাই,
ভেবে ভেবে ব্যাঙ
করেছে গ্যাঙ্গর গ্যাঙ্গর গ্যাঙ্গ্
যদি কেউ কাছে পিঠে থাকে
হাতে
হাত
রাখে
কুয়োর পাশাপাশি কত ফাঁকা মাঠ
কত বসন্ত,কত রাত,কত নদী ,কত নালা পথ
যেগুলি দেখেনি চোখে শুনেছে কেবল
নিশ্চুপে কুয়োর খোন্দরে বসে |
যেমন,
কুয়োমালিকের মেয়ে মুকুল তার গরিব
সই বকুলকে একদিন বললো...
"উড়োজাহাজে চড়ে দু হাজার ফিট উচু থেকে
সে দেখেছিলো সমুদ্রটাকে
দেখেছিলো সমুদ্রটা তার গল্পের ঠাকুমার
নীল মাদুরের মতো
ভোলগা,মিসিসিপি,ভাগীরথী ,গঙ্গা ,তিস্তা ,অজয়,
দ্বারকেশ্বর ঠাকুমার চুলের বিনুনি,
আল্পস্,হিমালয়,পশ্চিমঘাট,আরাবল্লি,নীলগিরি
আর সব পর্ব্বত ,মালভূমি,দেশ মহাদেশগুলো হলো
ঠাকুমার শাড়ির আঁচলের তলে ঢাকা হাত,পা,
মাথা আর সমস্ত শরীর
মধুচন্দ্রিমার দেশগুলোর পথে ঘাটে,
ভিখারী নেই,জলকষ্ট নেই,
কি ছিমছাম,কি ছিমছাম
কি সুন্দর,কি সুন্দর,ছবি ছবি ঘর,
সুইজারল্যান্ড,আইসল্যান্ড
আহা!কি মনোরম কি মনোরম !
শুধু আমাদের দ্বারকেশ্বর তীরের
গ্রামগুলোর বুকে
যত ব্যথা যত কষ্ট
এ কেন হয়!এ কেন হয়!
তার,
দুখের কথা মুকুল
বরকে বলেছিলো স্পষ্ট
বর বলেছিলো..
"মুকুল,আর সকলের মতো চিন্তা করে করে
ভবিষ্যত টা করো শুধু নষ্ট"
""কবিতা লেখাটা এরপর ছাড়ো তো"
.আজ,
মুকুল আপন মনে বকেই চলেছে
বকেই চলেছে
সময় তো হাতে কম,
বকেই চলেছে
বক্ বকম্ বকম্
'বকুল ওরে বকুল..
তুই আমার পুতুল খেলা সই
তুই আমার পাতনো ফুল শিউলি
তুই আমার পান খাওয়ানোর পানখিলি
তোকে কি করে ছেড়ে রই!
এখন,
দ্বারকেশ্বর ঠন ঠন
অভাব অনটন
তোদের দেখলো নারে কেউ,
তোদের দেখলো নারে কেউ!
এখন
গঙ্গার জলটাকে যদি
দ্বারকেশ্বরে আনা যেতো.
গ্রামের লোকগুলো
দু মুঠো অন্ন পেতো.
তাই শুনে বকুল
বললো...
'ঠাকুমার মাথায় যখন
এতগুলি বিনুনি..
সব বিনুনি তো আর শুকোয়নি.
আমাদের শুকনো নদীটাকে
একটা জলভর্ত্তি নদীর সাথে
পানখিলি পাতানো যেতো
নদীটা না হয় জলভর্ত্তি হতো
তোদের দেখা টেমসের মতো
লন্ডনে গিয়ে কথাটা মাথায় রাখিস্..?
দুই সইয়ের কথা শেষ হচ্ছেই না,
শেষ হচ্ছেই না.
আর তো খুব তাড়াতাড়ি ওদের
দেখাও হবে না ..
দুঃখে
ব্যাঙের বুক ফেটে যাচ্ছিল
ভাবছিলো
কুয়োর খোন্দর থেকে বালতি চেপে
কুয়ো পাড়ে আসে
বুকফাটা ব্যথাগুলো
গ্যাঙ্গর গ্যাঙ্গর করে
ভাসায় বাতাসে.
যদি রুদ্র বৈশাখ কালবৈশাখীকে ডাকে
যদি বৃষ্টি নামায়,ভরে যায় নদী
যদি ভালোবাসা ,ভেসে আসে ,
জলে ভেসে ভেসে ...
কত ফাঁকা মাঠ
কত নদী নালা পথ পার হয়ে সে
নীলমাদুরে শুয়ে থাকবে
ব্যাঙ
,এও ভাবছিলো..
আটাত্তরের বন্যার মতো
বন্যা নামুক
কুয়োটা পুরোপুরি ডুবে যাক..
ভেসে ভেসে নীলমাদুরের
দুঃখ খুঁজতে যাবে ..
হায় !ভগবান ,
ব্যাঙকে চিন্তাই করতে দিলো না..
দুষ্ট দুই কাক
কর্কশ কা কা ডাক
ঠোঁটে তুলে নেবার আগেই সে
কুয়োয় দিলো লাফ
কুয়োর ব্যাঙ,কুয়োর খোন্দরেই থাকে
দুঃখকে খুউব. ভালোবাসে..
খুউব....বেশী . ভালোবাসে |
0 Comments