মধ্যযুগের বিজ্ঞানচর্চা // সুদীপ ঘোষাল


.
মধ্যযুগের বিজ্ঞানচর্চা // সুদীপ ঘোষাল

.

চরক ওসুশ্রুত প্রবর্তিত চিকিৎসাশাস্ত্রের ধারা গুপ্ত পরবর্তী সময়ে অনুসরণ করা হয়েছে।জ্যোতির্বিদ্যা,গণিত,চিকিৎসাশাস্ত্র, রসায়ন বিদ্যার চর্চা প্রাচীন যুগের বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়।
মধ্যযুগের প্রারম্ভে বিজ্ঞানচর্চার ধারা অব্যহত ছিলো।
গুপ্তযুগে  বাগভট্ট অষ্টাঙ্গ সংগ্রহ এবং অষ্টাংগ হৃদয় সংহিতা নামে চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

.

নবম শতকে মাধব কর রোগ বিনিশ্চয় নামে একটি গ্রন্থ লেখেন যাতে একাধিক রোগ ও তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।.

.

দশম শতাব্দীতে বৃন্দমাধব গ্রন্থ এই গ্রন্থকে অনুসরণ করে লেখা হয়। একে সিদ্ধিযোগ গ্রন্থও বলা হয়।.

.

একাদশ শতাব্দীতে চক্রপাণি দত্ত চরক ও সুশ্রুত চিকিৎসাবিদ্যার উপরে নির্ভর করে আয়ুর্বেদ দীপিকা এবং ভানুমতী নামে দুটি চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থ লিখেছিলেন। এছাড়া চক্রপাণি দত্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ ও ছাতুর গুণাবলী নিয়ে একটি গ্রন্থ লেখেন যাতে একাধিক রোগ সংক্রান্ত প্রতিষেধকের উল্লেখ আছে। প্রতিষেধক সম্বন্ধে আলোচিত গ্রন্থের নাম শব্দচন্দ্রিকা ও দ্রব্যগুণ সংগ্রহ গ্রন্থ।.

.

গুপ্তযুগের সময়কাল থেকে পশু চিকিৎসার উন্নতি ঘটে। এযুগে হাতি ও ঘোড়ার রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত দুটি বই লেখা হয়েছিলো।.

.

আদি মধ্যযুগেও পশুচিকিৎসার অনেক উন্নতি হয়েছিলো। শালিহোত্র নামক গ্রন্থে ঘোড়ার বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার বিবরণ পাওয়া গেছে।.

.

গুপ্তযুগে আর্যভট্ট, বরাহমিহির, প্রমুখ জ্যোতির্বিদরা গ্রহ, নক্ষত্রের আলো, গাণিতিক সমস্যা বিশ্লেষণ  ও আহ্নিক ও বার্ষিক গতির  ব্যাখ্যা করে জনমানসে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন। এই সময় পঞ্চসিদ্ধান্তিকা,সূর্যসিদ্ধা, বৃহৎ সংহিতা, আর্যভট্টিয়ম প্রভৃতি গ্রন্থ ছিলো আকরস্বরূপ।.

.

খ্রীস্টীয় সপ্তম  শতাব্দীতে বিখ্যাত গণিতজ্ঞ  ও জ্যোতির্বিদ ব্রহ্মগুপ্তের আবির্ভাব ঘটেছিলো। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলি হলো ব্রহ্মসিদ্ধান্ত , ধ্যানগ্রন্থ প্রভৃতি। তিনি একদিকে যেমন  পাটিগণিতের ও বীজগণিতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করেছিলেন তেমনই সূর্যগ্রহণ   ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেন।.

.

অষ্টম  শতকে শ্রীধর গণিতসার   নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থে তিনি গণিতে শূন্যের ব্যবহার ও গুরুত্ব  সম্পর্কে লিখেছেন।.

.

নবম শতাব্দীতে শাস্ত্রবিদ ছিলেন মহাবীর।তাঁর গ্রন্থ সারসংগ্রহ।

দশম ও একাদশ শতাব্দীতে বলভদ্র, বটেশ্বর,বিজয়নন্দী,কল্যাণবর্মন প্রমুখ।

বিজয়নন্দীর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম করণতিলক।
কল্যাণবর্মণের গ্রন্থের নাম সারাবলী।

ভোজ ও ভাস্করাচার্য এ শতাব্দী র অন্যতম জ্যোতির্বিদ।
ভাস্করাচার্যের গ্রন্থের নাম সিদ্ধান্ত শিরোমণি।.

.

আদি মধ্যযুগে গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যার ব্যাপক উন্নতি ঘটলেও পদার্থ বিদ্যা,রসায়নবিদ্যার অগ্রগতি ঘটেনি। তবে চক্রপাণি দত্ত,বাণভট্ট রসায়নবিদ ছিলেন।

.

.

Post a Comment

0 Comments