নিজ সন্তানের জন্য যা করতে হবে // যাকারিয়া আহমদ

https://www.sahityalok.com/

 
সাত-আট বয়সে ছেলে-মেয়েকে নিজের নিরাপত্তা বা রক্ষার করার কৌশল শিক্ষা দিতে হবে। তার নিজের সম্পর্কে জানাতে হবে। মেয়েদেরকে অন্য ছেলেদের থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যের আদর-সোহাগ ও উপহার প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা, নিজের বাবা-মা ছাড়া কারও কথায় কোথাও একা না যেতে শেখানো এবং মেয়েদেরকে মেয়েদের দলে ও ছেলেদেরকে ছেলেদের সঙ্গে চলা শেখাতে হবে। নইলে বিপদ অনিবার্য।


 
অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখা জরুরি ফোনাপের ওপর। অল্পবয়সে তার হাতে ফোন না দেওয়াই উত্তম। আত্মীয় বাড়িতেও একা যেতে না দেওয়া। কোথাও যেতে বায়না ধরলে নিজে সময় বের করে নিয়ে যেতে হবে। মেয়ের বান্ধবী এবং খেলার সঙ্গীদের আচরণ লক্ষ্য করতে হবে। যদি অন্যরকম মনে হয়, মিশতে না দেওয়া শ্রেয়। আশপাশে যে কোনো কথা-বার্তা এবং আলাপচারিতায় অনভিপ্রেত কিছু শুনতে পেলে তা অনুসন্ধান করে দেখা। ছেলে-মেয়ের কাছে স্কুল-কোচিং সম্পর্কে জানতে চাওয়া, খোলা-মেলা কথাবলার অভ্যেস তৈরি করা মা-বাবার জন্য জরুরি। নইলে বিপদ নিকটবর্তী।


 
ইভটিজার হতে পারে ছেলের জন্য দুষ্ট কোনো মেয়ে। আবার মেয়ের জন্য হতে পারে নষ্ট কোনো ছেলে। সময় সুযোগে এরাই ঘটাতে পারে কোনো বড়ধরণের ঘটনা। এখানে একক ছেলে বা শুধু মেয়েকে দোষ দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন শুধু ছেলেগুলো ইভটিজার হয় না অনেক মেয়েও ইভটিজার হয়। তবে ছেলের সংখ্যা তুলনায় একটু বেশি। মা-বাবার জন্য জরুরি হবে নিজ সন্তানের বিদ্যালয় ও বাসার মধ্যবর্তী পথ খেয়াল রাখা। যাতে নিজ সন্তানের সঙ্গে অনভিপ্রেত কোনো ঘটনা না ঘটে। অন্যতায় সন্তানাদি হবে সাপ তুল্য।


 
 
ছেলে বা মেয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করলে বুঝতে হবে আপনার সন্তান নষ্ট হতে চলছে।গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদেরকে সংশোধন করতে আপনাকে সময় নেওয়া উচিত হবে না। যে কোনো কৌশল কাজে লাগিয়ে এবং সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে তাকে ফেরাতে হবে দুষ্টুমি থেকে। অসময়ে হায় হায় করে লাভ হবে না। যদি কৌশল ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে সন্তান সংশোধ না হয় তাহলে চিকিৎসার বা আইনের আশ্রয় নেওয়া জরুরি। নইলে চোখের জলে ভাসতে হবে দীর্ঘদিন।


 
আপনি যেখানে বসবাস করেন তার পরিবেশ, মানুষের আচার আচরণ, উঠাবসা খেয়াল করুন। যদি দেখেন পরিবেশ ভালো নয়, আচার-আচরণ সুন্দর নয় তাহলে আপনার নিজ সন্তানাদিকে মানুষ করার লক্ষ্যে অন্যত্র চলে যাওয়া উচিত। নতুবা আপনার সন্তান ও খারাপ হয়ে যাবে। সন্তানকে খারাপ বলার আগে নিজের বাচবিচারকে একটু বিচার করুন। নইলে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার নামান্তর হবে।


 
সন্তানের দায়িত্ববোধ আসার আগ পর্যন্ত যদি অভিভাবক দায়িত্ববোধ নিয়ে তাকে গড়ে তুলতে পারেন তাহলে সন্তান মানুষ হয়। জীবনে সফলকাম হয় পদে পদে। তা না হলে ওই সন্তান পরিবার, দেশ ও দশের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনে।


 
আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক চাইব সঠিকভাবে নিজ সন্তানাদিকে লালন-পালন করার জন্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দিক।


..........................................

Post a Comment

0 Comments