আমরা শ্রমশিল্পীর দল|
হ্যাঁ, শ্রমের বনিময়ে করি শিল্পরচনা|
তবুও ইতিহাস মনে রাখে না আমাদের|
ওই যে তোমরা দেশ বিদেশের পর্যটকেরা
তাজমহল দেখো, মুগ্ধ হয়ে দুচোখ ভরে,
তাও কিন্তু আমাদেরই সৃষ্টি
সুদূর অতীতে আমাদেরই পেশাগত
পূর্বসূরীরা অনেক শ্রমে,অনেক
ঘাম ঝড়িয়ে গড়ে তুলেছিল
এই সমাধি সৌধ|
ইতিহাস মনে রাখেনি আমাদের|
যার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে
এই সকল ঐতিহাসিক স্থাপত্য,
ইতিহাস বলে শুধু তাঁদের কথা|
বিশ্ব জুড়ে আছে আমাদের
হাতে গড়া অনেক অনেক
স্থাপত্যের নিদর্সন, কন্তু
আমরা না পাই
নাম, না পাই দাম|
ওই যে বড় বড়
প্রাসাদসম বাড়িতে
তোমরা থাকো ,তা
আমাদেরই হাতে গড়া,কিন্তু
আমাদের অনেকেরই বাড়ি
কিন্তু যথেষ্ট সুরক্ষিত নয়|
রোদ পুড়ে ,বৃষ্টিতে ভিজে
প্রতিনিয়ত কাজ করে চলি আমরা|
আমাদের কথা কজন ভাবে?
আমেরিকার শিকাগো শহরে
আট ঘন্টা কাজের দাবীতে
গর্জে উঠেছিল আমাদের পূর্বপুরূষেরা|
সে দাবী সরকারীভাবে স্বীকৃত আজ|
কিন্তু কলকারখানায় আজও
আমরা বাধ্য হই, অনেক অনেক
ঘন্টা কাজ করতে|
মালিকেরা থাকেন বড়
বড় নেতাদের ছত্রতলায়|
তাই আজও আমাদের
সয়ে চলতে হয় চরম অন্যায়|
মে দিবসে অনেক সময়
আমরা ছুটি পাই কাগজে কলমে|
খাতায় সই নেই,অথচ কাজ করছি
তাই রইলো না কোনো প্রমাণ|
এভাবেই হয়ে চলেছি আমরা
নানা ভাবে বঞ্চিত যুগ যুগ ধরে|
মে দিবসে দিকে দিকে কত না সভা
কত না বক্তৃতা আমাদের নিয়ে|
কিন্তু মঞ্চে উঠিয়ে আমদের কতজনকে
তোমরা দাও সত্যি বলার অধিকার?
তবে যুগের ,কালের নিয়মের
বদল আসবেই যেন,
আমরা ছিনিয়ে নেবই
আমাদের প্রকৃত অধীকার|

0 Comments