হাতেখড়ি ছোটবেলা, শুরুর সে সুমধুর ছন্দ,
আজো মনে করায় রঙিন ছেলেবেলার গন্ধ;
মুখে মুখে ছড়া শেখা, দুলে দুলে শেখা নামতা,
দিনগুলো মোড়া যেন, দিয়ে রূপকথার রাঙতা;
টিফিনবেলায় শোরগোল তুলে এর বক্স ও ঘাঁটে,
ছোট ছোট চুলগুলো হাওয়ায় দুলছে, বেবি ছাঁটে;
সরস্বতী পূজো, মহাধূমধাম, কচি হাতে ফল কাটা,
ফুল- মালা গেঁথে নিয়ে, স্কুল পথে সোজা হাঁটা;
শিক্ষক দিবসও, হতে হবে বেশ জমকালো,
ফুল-চন্দনে বরণ, কবিতা, গানে ছড়ায় আলো;
নিয়মশৃঙ্খলা, তার সাথে স্নেহের সে হাতছানি,
বন্ধু, দিদিমণিদের সনে কাটানো ওই দিনখানি,
স্মৃতির মণিকোঠায় তোলা থাকে, ঝরা সোনা হয়ে।
কলেজ বেলায় এসে, শুধু বড় হওয়া, এইটুকু,
শিক্ষক-শিক্ষিকা সাথে নিবিড় বন্ধন যেটুকু,
থাকে চিরদিন ক্ষয়হীন, বাধাহীন, অম্লান,
শত দুঃখ-ও তাকে করে নাকো ম্রিয়মাণ।
দিনবদলের সাথে, জায়গারাও বদলে যায়,
দিদিমণির চেয়ারেতেও শৈশবের খেলা রয়;
ভাগীদার করে তারা, ছোট ছোট নিজ গল্পের, হয় আপন বড়, রিন রিন দেয় টান ঐসব সুখের।
কাটে বেশ দিনগুলো বিজ্ঞানচর্চা, নাচে-গানে,
ছোট ছোট কুঁড়িগুলো প্রাণেতে জোয়ার আনে;
দেয় তারা ভালোবাসা, ভক্তি, শ্রদ্ধা অন্তহীন,
জীবনের সেরা সম্পদ, বাঁধ যেন হয় বাধাহীন;
সময়ের স্রোতে জীবনে, শেষের ধূসরতা নামে,
ছুটির ঘন্টা বাজে, দিনগুলো এসে সব থামে;
যা কিছু ফুরোবার নয়, সময়ে আজ তা ফুরায়,
বেঁচে থাকে স্মৃতিটুকু, বাকী যা কিছু সব হারায়।
মনের ভুলেতে শুনি,"দিদিমণি"-আদরের ডাক খানি,
জীবনে ধ্রুবতারার মতো সত্য হয়ে আছে জানি।
মন তাই দেয় ডাক, পৃথিবীর সবখানে বাড়ুক শিশুর দল,
অনুশাসন- ভালবাসা, বৃন্তের দুটি ফুল হয়ে বাড়াক বল;
যেথা যত ছাত্র-ছাত্রীদল বুদ্ধি- বিবেক সাথে নিয়ে,
শিক্ষার যে কোন আঙিনায়, বিকশিত হোক তা দিয়ে;
দুঃসময় কেটে যাবে, শুদ্ধ, মুক্ত সে বাতাসের ঘ্রাণ,
ফোটাবে নব আশা, জাগাবে সকল মানুষের প্রাণ।
0 Comments