দিদিমণি : সুতপা রায়


হাতেখড়ি ছোটবেলা, শুরুর সে সুমধুর ছন্দ,





আজো মনে করায় রঙিন ছেলেবেলার গন্ধ;





মুখে মুখে ছড়া শেখা, দুলে দুলে শেখা নামতা,





দিনগুলো মোড়া যেন, দিয়ে রূপকথার রাঙতা;





টিফিনবেলায় শোরগোল তুলে এর বক্স ও ঘাঁটে,





ছোট ছোট চুলগুলো হাওয়ায় দুলছে, বেবি ছাঁটে;





সরস্বতী পূজো, মহাধূমধাম, কচি হাতে ফল কাটা,





ফুল- মালা গেঁথে নিয়ে, স্কুল পথে সোজা হাঁটা;





শিক্ষক দিবসও, হতে হবে বেশ জমকালো,





ফুল-চন্দনে বরণ, কবিতা, গানে  ছড়ায় আলো;





নিয়মশৃঙ্খলা, তার সাথে স্নেহের সে হাতছানি,





বন্ধু, দিদিমণিদের সনে কাটানো ওই দিনখানি,





স্মৃতির মণিকোঠায় তোলা থাকে, ঝরা সোনা হয়ে।





কলেজ বেলায় এসে, শুধু বড় হওয়া, এইটুকু,





শিক্ষক-শিক্ষিকা সাথে নিবিড় বন্ধন যেটুকু,





থাকে চিরদিন ক্ষয়হীন, বাধাহীন, অম্লান,





শত দুঃখ-ও তাকে করে নাকো ম্রিয়মাণ।





দিনবদলের সাথে, জায়গারাও বদলে যায়,





দিদিমণির চেয়ারেতেও শৈশবের খেলা রয়;





ভাগীদার করে তারা, ছোট ছোট নিজ গল্পের,    হয় আপন বড়, রিন রিন দেয় টান ঐসব সুখের।





কাটে বেশ দিনগুলো বিজ্ঞানচর্চা, নাচে-গানে,





ছোট ছোট কুঁড়িগুলো প্রাণেতে জোয়ার আনে;





দেয় তারা ভালোবাসা, ভক্তি, শ্রদ্ধা অন্তহীন,





জীবনের সেরা সম্পদ, বাঁধ যেন হয় বাধাহীন;





সময়ের স্রোতে জীবনে, শেষের ধূসরতা নামে,





ছুটির ঘন্টা বাজে, দিনগুলো এসে সব থামে;





যা কিছু ফুরোবার নয়, সময়ে আজ তা ফুরায়,





বেঁচে থাকে স্মৃতিটুকু, বাকী যা কিছু সব হারায়।





মনের ভুলেতে শুনি,"দিদিমণি"-আদরের ডাক খানি,





 জীবনে ধ্রুবতারার মতো সত‍্য হয়ে আছে জানি।





মন তাই দেয় ডাক, পৃথিবীর সবখানে বাড়ুক শিশুর দল,





অনুশাসন- ভালবাসা, বৃন্তের দুটি ফুল হয়ে বাড়াক বল;





যেথা যত ছাত্র-ছাত্রীদল বুদ্ধি- বিবেক সাথে নিয়ে,





শিক্ষার যে কোন আঙিনায়, বিকশিত হোক তা দিয়ে;





দুঃসময় কেটে যাবে, শুদ্ধ, মুক্ত সে বাতাসের ঘ্রাণ,





ফোটাবে নব আশা, জাগাবে সকল মানুষের প্রাণ।














Post a Comment

0 Comments